পুঠিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

Puthiya
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ঘর তৈরি করে দেয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। এছাড়া, একই পরিবারের নামে একাধিক ঘর ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর দেয়ারও  অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। “যার জমি আছে ঘর নাই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ” নীতিমালা অনুযায়ী টাস্কফোর্স এর সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ টাকা।

ইতিমধ্যে ওই ঘর নির্মাণের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে বেলপুকুর ইউনিয়ন এলাকায় ১৮৮টি ঘর তৈরির তালিকা এসেছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের কাজ শেষে বেলপুকুর ইউনিয়নের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়ন এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর নির্মাণ কাজ করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাহ-উদ্দীন আল ওয়াদুদ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে বানেশ্বর এলাকার ৫৫টি ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কয়েক দিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।  আর ঘর দেয়ার নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি লোকমূখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।

বানেশ্বর ও বেলপুকুর ইউনিয়ন এলাকা ঘুরে জানাগেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ঘর দেয়ার নামে উপজেলা যুব ও মহিলা লীগের সভানেত্রী পরিজান বিবি প্রতিটি ঘরের জন্য ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা হারে আদায় করছে। তার উপর অনেক স্বচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘর পাচ্ছেন।

একটি সূত্র জানায়, বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রামের একই পরিবারের নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সূর্যহারা বেগম, বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে লিটনের নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ তারা আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। এছাড়া, বানেশ্বর ইউনিয়নের প্রভাশালী সানোয়ারা বেগম, রিনা বেগম, রেনু বেগম যুব ও মহিলা লীগ নেত্রী পরিজান বিবি নিজ নামে ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। আর ঘর দেয়ার নামে পরীজান বিবির সহনেত্রীরা উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছেন।

বানেশ্বর এলাকার হতদরিদ্র নুরজাহান বেওয়া ও আশরাফ আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা টাকা দিতে পেরেছে শুধুমাত্র তাদেরকেই ঘর দেয়া হচ্ছে। আমরা অনেক গরীব মানুষ কিন্তু ১০/১৫ হাজার টাকা দেয়ার সমর্থ নাই। যার কারণে পরীজান বিবির বাড়িতে অনেক বার ঘুরা-ঘুরি করেও আমাদের নামে কোনো ঘর আসেনি।

রাজশাহী জেলা যুব ও মহিলা লীগের সহ-সভাপতি রজুফা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী গরীব মানুষেদের নামে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ আমাদের এখানে নেত্রীরা প্রভাবশালীদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে তাদের নামে ঘর বরাদ্দ দিচ্ছে। আর প্রকৃত গৃহহীনরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ সকল ঘটনায় এলাকার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পরীজান বিবি বলেন, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তালিকা তৈরি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তালিকা অনুমোদন পর্যন্ত আমার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। খরচা-পাতির কারণে প্রতিটি ঘর দেয়ার বিনিময় প্রথমে দু’হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ঘর অনুমোদন আসার পর তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই টাকা অনেকই দেয়নি। এ ঘটনা নিয়ে গ্রামে উত্তেজনাও দেখা দিয়েছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের সভাপতি আব্দুলাহ আল মাহমুদ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘরগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। আমরা শুধু তালিকা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবো। আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের সহযোগিতা নেয়া হলে প্রভাবশালী ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম আসতো না। আর ঘরের বিনিময় অর্থ নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

ad