পুঠিয়ায় ভেজাল ক্রীম কারখানার ছড়াছড়ি, বন্ধের নির্দেশ

Puthiya
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, পুলিশ-প্রশাসনের মদদে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় দু’ডজন রং ফর্সাকারী ভেজাল ও নকল প্রসাধনী কারখানা।

এসব ক্রীম মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকারক হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ১২টি ক্রীম কারখানায় অভিযান পরিচালনা ও বন্ধ করার নিদের্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া ওই ভেজাল কারখানার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

জানাগেছে, এই উপজেলায় কয়েকটি স্থানে এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘ দিন যাবত রং ফর্সাকারী নকল ও ভেজাল প্রসাধনী উৎপাদন এবং বাজারজাত করে আসছে। যা মানব দেহের মারাক্তক ক্ষতির হওয়ায় গত ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব ফরিদ আহম্মদ স্বাক্ষরিত একটি নিদের্শনা পত্রে এসব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থানেয়ার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রেরণ করা হয়।

ওই পত্রে ১২টি ভেজাল ও অবৈধ ক্রীম কারখানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মর্ডাণ হারবাল, রুপসী গোল্ড, মেডনা স্পট ক্রীম ও হারবাল, চ্যালেঞ্জার হারবাল ও প্রসাধনী, ডিজিটাল হারবাল, সীনা স্পট ক্রীম, রোমাঞ্চ হারবাল ও স্পটক্রীম, ডায়মন্ড স্পট ক্রীম, ঝিলিক সলিসন, লাউস ষ্টার গোল্ড ও আইকন হারবাল, লাকি সেভেনস্পট ক্রীম এবং জ্যোতি বিউটি হারবাল।

পত্রে উল্লেখ করা হয় ওই ক্রীম কারখানার মালিকরা বিএসটিআই কর্তৃক দু’একটি পণ্যের অনুমোদন গ্রহণ করে অবৈধ ও ভেজাল মিশ্রিত একাধিক পণ্যে উৎপাদন এবং বাজারজাত করছে। তারা স্টিলম্যান, টিয়ারিক এসিড, আইসোপ্রোপাইল, মাইরিস্টড, সাধারণ পানির মিশ্রণে তৈরি করছে রং ফর্সাকারী ক্রীম ও বিভিন্ন প্রসাধনী। বাহারী বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে এ সকল পণ্য ব্যবহার করে জনসাধারণ একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অপরদিকে বিভিন্ন চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

পত্রে আরো বলা হয়, সাবেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, উপ-পরিদর্শক তৌফিক ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা ওই সকল ভেজাল নকল প্রসাধনী কারখানার মালিকদের নিকট থেকে সুবিধা গ্রহণ করেছে। যার ফলে উপজেলা প্রশাসন অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকারী ভূমিকা গ্রহণ করেননি। এতে করে ওই কারখানার মালিকরা দেদারছে অবৈধ ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিপনন করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা নাহার বলেন, ভেজাল ও অবৈধ প্রসাধনী তৈরির কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। অচিরেই ওই কারখানাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হবে।

ad