পুঠিয়ায় রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল চালাচ্ছে পুলিশও!

pR
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় রেজিষ্ট্রশনবিহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। রেজিষ্ট্রশনবিহীন গাড়ি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউপি এলাকায় পুলিশ-প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে শত শত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরবাইক ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কসহ এলাকার বিভিন্ন সড়কে দেদাড়ছে চলাচল করছে। এদের মধ্যে অনেক বাইক মালিকরা তাদের গাড়িতে ভুয়া টাকা জমা দেয়া রশিদ ঝুলিয়ে রেখেছে। কেউবা টাকা জমা দেয়া একই কাগজের ফটোকপি একাধিক গাড়িতে লাগিয়ে রেখেছে। আবার অনেক গাড়ির সামনে-পিছনে অনটেস্ট, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ভূমি কমিশনার, মুক্তিযোদ্ধা, ইউনিয়ন পরিষদ, প্রেস লিখাসহ বিভিন্ন উপাধি ব্যবহার করছে। কেউবা ভুয়া নম্বর প্লেট লিখে রেখেছে।

এমরান হোসেন নামের একজন বাইক মালিক বলেন, আমি গত এক মাস আগে একটি মোটরবাইক কিনেছি। আর্থিক কিছু সমস্যার কারণে রেজিস্টার করতে একটু দেরি হচ্ছিল। কিন্তু রাস্তায় বের হলেই পুলিশ গাড়ি আটক Motorকরে থানায় নিয়ে যেত। দু’দফা আট হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছি। এরপর অনেক কষ্টে রেজিস্টার সম্পন্ন করেছি। অথচ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গাড়ীর কোনো কাগজপত্র নেই। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলাচল করছে। অনেক আবার তাদের গাড়িতে ভুয়া টাকা জমা দেয়া রশিদ দীর্ঘদিন থেকে ঝুলিয়ে রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে থানার একজন উপ-পরিদর্শক বলেন, শুধু সাধারণ পাবলিকের দোষ দিয়ে লাভ কি। আমাদের মধ্যে বেশীরভাগ পুলিশের মোটরবাইকের কাগজপত্র নেই। তারা যত্রতত্রভাবে একটা নম্বর গাড়িতে ব্যবহার করছে। উপজেলায় মোট কতটি গাড়ী বৈধ আর অবৈধ এর কোনো পরিসংখ্যান কোথাও নেই। রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির কারণে খুব সহজেই এলাকায় মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও চুরি ছিনতিইয়ের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

অপরদিকে স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী দুঃখ প্রকাশ বলেন, জেলা উপজেলা থেকে নাম সর্বস্ব পত্রিকা ও বিভিন্ন ডটকম বের হচ্ছে। আর এই অজুহাত দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা রাতারাতি সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে। উপজেলাজুড়ে এখন প্রায় শতাধিক লোকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের ব্যবহৃত মোটরবাইকের আগে পিছে লিখা থাকে প্রেস।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে দু’এক দিনের মধ্যে রেজিষ্ট্রশনবিহীন গাড়িগুলোর সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ad