পুঠিয়া-চারঘাট সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Puthiya
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী বাজার থেকে চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজদারীর অভাবে নির্ধারিত সময়ে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি ও অতি নিন্মমানের কাজ করায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পুঠিয়া বাজারের শিবমন্দির মোড় থেকে চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া বাজার পর্যন্ত এক হাজার ৯৪৫ মিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজ বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। কাজ শুরু করার সময় নির্ধারিত ছিল চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি। আর চলতি বছরের ১০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নাটোর জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর হাবিবুর আলম ওই কাজটি নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস পর মধ্যে জুলাইয়ে শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর রাস্তার পূনঃনির্মাণ কাজ শুরু করায় ১০ থেকে ১২টি স্থানে রাস্তার দু’পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কে ব্যবহৃত ইটগুলো অতি নিম্নমানের হওয়ায় রুলার করার সময় খোয়াগুলো কাদায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া সড়কের প্রস্ত ৭০০ মিটার পর্যন্ত ১২ ফিট ও বাকি সড়ক ১৬ ফিট করার কথা। কিন্তু রাস্তার দু’পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা থাকা সত্বেও বেশীরভাগ স্থানে তার মিল নেই।

স্থানীয় এলাকাবাসী খোকন খলিফা বলেন, এই সড়কের কাজটি খড়া মৌসুমে করার কথা থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ বছর দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হওয়ার করণে ঠিকাদারের লোকজন রাস্তার কাজ তড়িঘড়ি করে করছে। রাস্তায় ইটের খোয়াগুলো অতি নিম্নমানের হওয়ায় ঠিকমত রুলার করছে না। যার কারণে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শরিফুল নামের অপর এক ভ্যান চালক বলেন, বর্ষার মধ্যে রাস্তার কাজ করায় এখনই সড়কের কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে। আবার দিঘীর পাড়গুলো সংস্কার না করার করণে সেখানে রাস্তা ভেঙে পানিতে চলে গেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর হাবিবুর আলম এর কর্ণধার নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না করায় তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। আর রাস্তার কাজে আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। যার কারণে কাজে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তবে রাস্তার দু’পাশে জায়গা না থাকায় মাপে কিছুটা কম-বেশী হতে পারে।

ad