পুরুষ শূন্য শেরপুরের পানাইতাপাড়া গ্রাম

Sherpur- Mamla
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ডিবি পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীর সদর ইউনিয়নের পানাইতাপাড়া গ্রাম। শুরু পুরুষই নয় গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক নারীও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানা যায়, গত ১৯ মে রাত ৯টার দিকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পানাইতাপাড়া বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল। এ সময় সুমন মিয়া (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে  গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর সুমনের দেহ তল্লাশি করে ৫৫ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই মাদক ব্যবসায়ীর চাচা শাহজাহানের নেতৃত্বে আসামীর বড় ভাইসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি গোয়েন্দা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে সুমনকে ছিনিয়ে নেয়। ওই হামলায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়।

এছাড়া এএসআই হাবিবুর রহমানের ব্যবহৃত একটি মোবাইলসহ চার হাজার তিনশ টাকা ও এএসআই শামীমের আড়াই হাজার টাকা খোয়া যায়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাত আরও ১১৫ জন ব্যক্তিকে আসামী করে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ কিছু নির্দোষ ব্যক্তিকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে এখন এলাকায় মানুষের দেখা নেই। এমনকি মসজিদে নামায পড়ার মতো কেউ নাই। এছাড়া এলাকার মহিলারাও এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে।

সদর ইউনিয়নের পানাইতাপাড়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল্লাহ জানান, গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে ওই গ্রামটি। সন্ধ্যা নামলেই পুরুষরা ঘর-বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনসহ নানা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার অনেকেই ঘটনার পর থেকেই অজানা স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তিনি এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সমাধান চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ছুডু অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। তার নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আসামী সাদ্দামের মা হাবিবা বলেন, মনে করেন ইনো (এই) ঘটনার দুই দিন আগেই আমার ছেলেরে আরেক মামলায় পুলিশ ধইরে নিয়ে গেছে। তার পরেও আমার ছেলেরে আবার আসামী দিছে। যারা এ দুর্ঘটনা গুইল্লা ঘটায়ছে ওগরে বাদ দিয়া আমগর (আমাদের) নাম দিছে।

এ সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইগাতী থানার উপ-পরিদর্শক সজীব বলেন, এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সুজন ও সাইফুল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টির এখন পর্যন্ত তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আইনের মাধ্যমেই তাদের বিচার হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, মানুষ যদি পুলিশের ভয়ে দূরে সরে থাকে সেখানে পুলিশের কিছুই করার নেই।

ad