পূর্বধলায় ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, পানির তীব্র সংকট

East east, 4 days, electricity, no,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় চারদিন আগে ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ফিডারের পোলসহ বিভিন্ন লাইনের বেশকিছু খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এর ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে তীব্র পানির সংকট। তাতে সেখানকার অধিবাসীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। 

শুক্রবার (১১ মে) সকালে উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় ও ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এতে পাকা বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফসল বিনষ্ট, ঘরবাড়ি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, বিদ্যুৎ লাইন ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হয়েছে আগামী ৩-৪ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না। তবে ওই সময়ের মধ্যেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল হবে কিনা এতেও সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

ঝড়ে একদিকে যেমন ফসল হারানোর শোকে স্থানীয়রা মুহ্যমান, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় জেনারেটর ব্যবসায়ীরা জেনারেটর নিয়ে বাড়িবাড়ি গিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পানি উঠিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতেও ছুটছেন।

বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজে বিপাকে পড়েছেন উপজেলাবাসী। বিশেষ করে পানি ওঠাতে না পেরে বাসাবাড়িতে পানি না থাকায় দৈনন্দিন কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এছাড়া ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংস ও শাক-সবজি নষ্ট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। অফিস আদালত, ব্যাংক, বীমা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। চার্জের অভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ রয়েছে। মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নেটওয়ার্কেরও সমস্যা হচ্ছে।

পূর্বধলা বালিকা বিদ্যালয় রোডের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির অভাবে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রৌশনারা রোডের বাসিন্দা অনীল চক্রবর্তী, কলেজ রোডের বাসিন্দা বদরুজ্জামান বলেন, তারা ১ হাজার লিটারের পানির ট্যাংক ৫০০ টাকায় ও ৫০০ লিটারের ট্যাংক ৩০০ টাকায় ভ্রাম্যমাণ জেনারেটরের মাধ্যমে পানি উঠালেও সীমিতভাবে তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের লোকজনকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

পূর্বধলা বাজারের ছাপাখানা এবং কম্পিউটার ব্যবসায়ী মো. জায়েজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তিনদিন ধরে ছাপাখানা ও কম্পিউটার বন্ধ রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ছাপা ও কম্পোজসহ ফটোকপির কাজ করা যাচ্ছে না।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বধলা কার্যালয়ের সহকারী জুনিয়র প্রকৌশলী অর্ধেন্দু শেখর বলেন, ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত দেয়ার জন্য নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অন্যান্য শাখা থেকে অতিরিক্ত জনবল এনে দিন-রাত কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সোমবার (১৪ মে) উপজেলা সদরে সীমিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

ad