প্রতিবন্ধী বৃষ্টির জন্য বসতঘর নির্মাণ করছেন ইউএনও!

Chatmohor Bristi
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের শেকলবন্দি মানসিক প্রতিবন্ধী শুকজান নেছা বৃষ্টির চিকিৎসা শুরুর পর এবার তার জন্য বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টিকে দিয়েই তার নতুন বসতঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার। শুধু ঘর নয়, বৃষ্টির বাড়িতে একটি নতুন টিউবওয়েল ও টয়লেটও নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ঘর নির্মাণ দেখে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃষ্টির মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুকজান নেছা বৃষ্টির এমন করুণ পরিণতি নিয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের পর বৃষ্টির চিকিৎসা ও নতুন ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার। সেই সাথে তাকে শেকলমুক্ত করেন তিনি। এছাড়া তাদের ব্যবহারের জন্য একটি টিউবওয়েল ও টয়লেট স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।

নতুন ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পর বৃষ্টি ইউএনওকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আল্লাহ্ আপনার ভাল করবি, আমারেক ঘর দিল্যান, আমাক ডাক্তার দেখ্যালেন। আমি ভাল হল্যি আপনের জন্যি দোয়া করবোনে।’

বৃষ্টির এমন কথা শুনে ইউএনও সরকার অসীম কুমার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত সবার চোখেই ছিল অশ্রু।

এর আগে গত ৯ মে বুধবার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃষ্টিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার খেলে বৃষ্টির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, অবহেলা নয়, মানবিকতা ও সহমর্মিতা দিয়ে বৃষ্টিসহ সমাজের সকল প্রতিবন্ধীকে ভালবাসতে হবে। বৃষ্টির মতো এমন মেয়ে আমার ঘরেও জন্মাতে পারতো। আমাদের ঘরে প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নিলে যেমন আচরণ করতাম, বৃষ্টির বেলাতেও সেই আচরণ করতে হবে। বৃষ্টি সুস্থ হলে এরপর তাকে স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান ইউএনও।

নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুজ্জামান খোকন বলেন, আমি আমার জীবনে এমন মানবিক ইউএনও কখনও দেখি নাই। উনি তার দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। যা আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মানসিক প্রতিবন্ধী শুকজান নেছা বৃষ্টির জন্মের পর মারা যান মা রোজিনা খাতুন। এরপর বাবা মনিরুল ইসলাম অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। কোনো জায়গায় ঠাঁই না পেয়ে শতবর্ষী বুড়া মা (মায়ের দাদি) রাহেলা বেগমের কাছে আশ্রয় মেলে তার। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে বৃষ্টিকে দীর্ঘ দশ বছর জীর্ণ-শীর্ণ ঘরে দিনরাত শেকলবন্দি করে রাখেন তার স্বজনরা।

ad