প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ভবতী মায়েরা

thakurgoan
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি মায়ের অধিকার। সুস্থ-সবল শিশু দেশের অমূল্য সম্পদ। মায়ের গর্ভকালীন সুস্থতাই পারে একটি সুস্থ শিশু জন্ম দিতে। এর জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব অপরিহার্য।

কিন্তু ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে জেলার অধিকাংশ নারীই এ সেবা থেকে বঞ্চিত। আবার দেখা যায়, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতার কারণেও অনেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আগ্রহী হয় না। একদিকে অপ্রতুল চিকিৎসা সেবা অন্যদিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থা বিরাজ করছে এ জেলায়।

জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র, জরুরি প্রসূতি সেবা প্রদান, মিডওয়াইফারি কোর্স, গরিব ও দুস্থ মায়েদের জন্য মাতৃ স্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম, কমিউনিটি স্কিল্ড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট প্রশিক্ষণ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ও টিকাদান কর্মসূচি, ইপিআই-এ জরুরি প্রসূতি সেবা কার্যক্রম থাকলেও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারে না বলে অভিযোগ অনেক গর্ভবতী মা ও স্বজনের।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৩টি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা, ১৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি আধুনিক সদর হাসপাতাল, ১টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। কিন্তু এ সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা রকম গাফিলতির কারণে গর্ভবর্তী মায়েরা সঠিক মাতৃত্ব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতরের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা ৭ হাজার ৪শ ৭২ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বাভাবিক ডেলিভারি ২ হাজার ৯শ ৫১ জনের আর সিজিারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ৩ হাজার ৫ শ জনের। গর্ভজনিত জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের ও অন্যান্য কারণে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৪০৩ জনের।

কিন্তু এ সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারি সংকটের কারণে গর্ভবর্তী মায়েদের সঠিক সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

জেলার সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ও টাকার অভাব নেই, অভাব আছে প্রতিশ্রুতি ও মনিটরিং ব্যবস্থার। তাই মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সবাইকে কমিটমেন্ট নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার।

ঠাকুরগাঁও পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানান, সরকার মাতৃ মৃত্যু হার কমানোর জন্য ইতোমধ্যে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৯৫ ভাগ গর্ভবতী মা স্বাস্থ্য সেবার আওতায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি জনবল তৈরি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও ওষুধ সরবরাহ বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে।

ad