ফেনীতে আড়াই বছরে ৩০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার!

Yaba
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী জেলা ফেনী ত্রিমুখী ইয়াবা পাচারের রুটে পরিণত হয়েছে। নদীপথ, সড়কপথ ও রেলপথে পাচার হয়ে ফেনী আসে ইয়াবা। গত ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত ২ বছর ৫ মাস ৭ দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০টি অভিযানে ৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৫৩ পিছ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ডিবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর ফেনী রামপুর এলাকায় ৩৯ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল পাঠানবাড়ী রোডে ৩ হাজার পিছ, ২০ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই মাহফুজুর রহমানকে একটি প্রাইভেটকারসহ ৭ লাখ পিছ, ১২ জুলাই সোনাগাজীতে ২’শ পিছ, একই বছরের ৫ আগস্ট ফেনী শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ হাজার পিছ, ১৫ সেপ্টেম্বর পাঠানবাড়ি এলাকা থেকে ৩ হাজার পিছ, ১৫ অক্টোবর পেট্রোবাংলা এলাকা থেকে ২’শ পিছ, ১১ ডিসেম্বর রামপুর এলাকায় কমলাবাহী একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৬৫ হাজার পিছ, ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকার থেকে ২ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি লালপোল এলাকা থেকে ১ হাজার পিছ, ১৬ অক্টোবর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ হাজার পিছ, ১৮ ডিসেম্বর ছাগলনাইয়া থেকে ৪৭০ পিছ, ২৭ ডিসেম্বর মোটবী থেকে ২’শ পিছ, ৩০ ডিসেম্বর মহাসড়ক থেকে ৫’শ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি লালপোল থেকে ১ হাজার পিছ, ৩ ফেব্রুয়ারি রেলস্টেশন এলাকা থেকে ৯ হাজার ৭২০ পিছ, ৪ মার্চ শিবপুর থেকে ২’শ পিছ এবং সর্বশেষ ২৮ মার্চ রাতে র‌্যাব উদ্ধার করে ৪০ হাজার পিছ ইয়াবা। এছাড়া, ছোটবড় বিভিন্ন অভিযানে বেশ কয়েক হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের একটি অংশ মাত্র। এটি উদ্ধার হওয়ার চিত্র হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কি পরিমাণ ইয়াবা পাচার ও বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে মারাত্মক শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের ধারণা বাংলাদেশের লাইফ লাইন ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা পাচার সহজ। এ রুট দিয়ে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে ইয়াবা পৌঁছানো যায়।

চট্টগ্রাম শহর নিকটবর্তী হওয়ায় ফেনী জেলার শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র থাবা বিস্তার করছে ইয়াবা। শহরের বিরিঞ্চি, একাডেমী, সিও অফিস, রামপুর, উকিল পাড়া, বারাহিপুর এবং মহিপালের অলিগলিতে দিনরাত চলে ইয়াবার বেচাকেনা। এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযান ছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে তেমন কোন ভূমিকা পালন করে না।

আকারে ছোট হওয়ায় ভয়াবহ এ মাদক পাচারে চোরাকারবারীরা উৎসাহী হয়। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পাচারের এ রুট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন মহল।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু ব্যক্তিও এ ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের পরামর্শ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করে তাহলে বিক্রেতাদের দৌরাত্ম কমে যাবে। এতে করে নিয়ন্ত্রণে আসবে ভয়াল এ নেশা। এছাড়াও এখন গ্রামে-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনাই রুখতে পারে ইয়াবার এই মরণ থাবা, এমন মত ফেনীবাসীর।

ad