বাউফলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

Bauphal
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বরাদ্ধকৃত টাকা উঠিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পগুলো হল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময় টাকা (কাবিটা), টেস্ট রিলিফ (টিআর), প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড, ক্ষুদ্র মেরামত ও লেট্রিন মেরামত।

সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গত অর্থ বছরে (২০১৭-১৮) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ৪ কিস্তিতে মোট ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ প্রকল্প দৃশ্যমান নেই। পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি ও সেচ, স্যানিটেশন এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য ওই টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

উপজেলা পরিষদের রাজস্ব আয় থেকে (হাট-বাজার ও বাসা ভাড়া) ৭২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, কাজ না করে বিল নেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা কাজ তদারকি করেই বিল দিয়েছি।

এদিকে কাজের বিনিময় খাদ্য (সাধারণ) ৮৫ মেট্রিক টন চাল দিয়ে ১৮ প্রকল্প ও কাজের বিনিময় টাকা (সাধারণ) ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯ প্রকল্প, কাজের বিনিময় খাদ্য (বিশেষ) ১৪৭ মেট্রিকটন চাল দিয়ে ১৮ প্রকল্প ও কাজের বিনিময় টাকা (বিশেষ) ৫৭ লাখ ৬২ হাজার টাকায় ১৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিনে অধিকাংশ প্রকল্পেরই কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।  টেস্ট রিলিফ (সাধারণ) ৫৪ লাখ ৯ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যয়ে ৬৬টি প্রকল্প এবং টেস্ট রিলিফ (বিশেষ) ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৩০ জুনের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরেই বিলের টাকা দেয়া হয়েছে। যে সব কাজ শেষ হয়নি, আমি তার বিলের টাকা দেইনি। পরিপত্রের আলোকে ওই টাকা একাউন্টে জমা রেখেছি। কাজ শেষ করার পরেই বিল পরিশোধ করা হবে। তবে কি পরিমাণ কাজের টাকা জমা রাখা হয়েছে তা তিনি বলেননি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাসও একই কথা বলেন।

অপরদিকে উপজেলার ২৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে স্লিপ প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকা দিয়ে ওইসব স্কুলের শিক্ষা উপকরণ ও ক্ষুদ্র মেরামত করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ৩০ জুনের মধ্যে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অথচ আগাম বিল ভাউচার জমা দিয়ে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ১ লাখ টাকা করে মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।  স্কুলগুলো হলো- উত্তর কালাইয়া, আলী আকবর, মধ্য কেশবপুর, কালাইয়া কোটপাড়, দক্ষিন রাজাপুর, স্বানেশ্বর, উত্তর কর্পুরকাঠি, পশ্চিম ছিটকা, কেশবপুর এনএস, উত্তর পশ্চিম রামনগর, উত্তর মধ্য রাজাপুর ও কালিশুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরমধ্যে কোনো কোনো স্কুলে নামমাত্র কাজ করা হলেও অধিকাংশ স্কুলে কাজ করা হয়নি।

এছাড়াও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেট্রিন মেরামতের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ২ লাখ টাকা টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কাজ না করেই টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব সংস্কার কাজ করার নির্দেশ ছিল। স্কুলগুলো হল নিজ তাঁতেরকাঠি, উত্তর পূর্ব কাছিপাড়া, শিবপুর, পশ্চিম মাঝপাড়া, মধ্য নওমালা, দক্ষিণ মহাশ্রাদ্ধি, দক্ষিণ বিলবিলাস, উত্তর সাবুপুরা, উত্তর পাকডাল ও দক্ষিণ পোনাহুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, অফিসের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত অংকের কমিশন দেয়ার পর যে টাকা থাকে তা দিয়ে কাজ যতটুকু করার তাই করা হয়েছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য শতকরা ১০ পার্সেন্ট হারে ঘুষ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল হক বলেন, স্কুলের স্লিপ ফান্ডের টাকা এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। তদারকি করে টাকা দেয়া হবে।

স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামত ও লেট্রিন সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরেই টাকা দেয়া হয়েছে। তারপরেও কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে সমন্বয়হীনতার কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ১ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে।  ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করার কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে দাখিল করা হয়নি।

ad