বাউফলে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ১৪ হাজার টাকায় রফা করলেন মাতব্বররা!

Jagoran- rape 1
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের ১৪ হাজার জরিমানা করে বিষয়টি রফাদফা করেছেন গ্রাম্য মাতব্বররা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংড়া গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করে শফিক খান নামের এক যুবক।  ঘটনার সময় ধর্ষককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ  রেজাউল ধর্ষক শফিককে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

পরের দিন শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে শালিস বৈঠকে বসেন এলাকার কয়েকজন মাতব্বর। এদের মধ্যে নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদারের ভাই মহিউদ্দিন হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার ধর্ষককে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য নির্যাতিতার পরিবারকে শাসিয়ে দেন।

ধর্ষক শফিক খান নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার দেরাজ আলী খানের ছেলে। ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর  থেকে আতঙ্কে রয়েছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ।

নির্যাতিতার শাশুড়ি বলেন, ১৪ হাজার টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের ভাইয়েরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। এখন যদি এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলি তাহলে আমাদের বিপদ হবে।

এদিকে, নির্যাতিতার স্বামী ঘটনার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

গৃহবধূ জানান, ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে শফিক আমার মুখ চেপে ধরে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। আমার অনুপস্থিতিতে শালিস বৈঠক হয়েছে।

মাতব্বর নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাদা হাওলাদারের ভাই আরিফ হাওলাদার বলেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাতে শফিক ওই ঘরে ঢুকেছে এ জন্য তার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা  নেয়া হবে।

ad