বাউফলে জামাইকে নিয়ে লাপাত্তা: মায়ের বিচার চান মেয়ে

Bauphal, missing, Maa, Judge,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে নার্গিস বেগম নামের এক নারী নিজের মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মেয়ের জামাইকে নিয়ে লাপাত্তা হওয়া মায়ের বিচার চাইলেন লিপি আক্তার।

শুক্রবার (১১ মে) মায়ের বিচারের দাবিতে বাউফল থানায় একটি মামলাও করেন লিপি আক্তার।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বড় বোন মালা বেগম বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। আর এই আত্মহত্যায় তাকে বাধ্য করেছেন মা নার্গিস বেগম ও দুলাভাই মামুন ঢালী। ঘটনার দিন মালা তার মা নার্গিস বেগমের সঙ্গে স্বামী মামুন ঢালীকে একই বিছানায় আপত্তিকর অবস্থায় দেখে লজ্জায় অপমানে বিষপান করেন।

মালার মেজো বোন লিপি আক্তার তার সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমার বোনকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের কাদের ঢালীর ছেলে মামুনের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মালার।

বর্তমানে তাদের মোস্তাফিজ নামের ২ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন মালা।

সম্প্রতি মালার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার মারা যান। মায়ের একাকিত্ব দূর করতে মালা তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন ।

এ সুযোগে মালার মা নার্গিস বেগমের সঙ্গে তার স্বামী মামুন ঢালীর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। একাধিকবার মালা তার মা নার্গিস বেগম ও স্বামী মামুনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে মালার একাধিকবার ঝগড়া হয়।

গত ২ মে মালা তার স্বামী মামুন ঢালী ও মা নার্গিসকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে বিষপান করে। পরে চিকিৎসার নাম করে মালাকে তারা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

মালার চাচা হেলাল হাওলাদার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাতিজি মালা মারা গেছে এ খবর পেয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে শিশু সন্তান মোস্তাফিজকে নিয়ে মালার মা নার্গিস ও জামাই মামুন উধাও হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরে বিষয়টি কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ মালার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

৩ মে বৃহস্পতিবার পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে মালার লাশ তার চাচা হেলাল হাওলাদারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাউফলের মদনপুরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মালার লাশ দাফন করা হয়।

মালাকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রথম দিকে দাবি করেন চাচা হেলাল হাওলাদার। কিন্তু মালার বোন লিপি দাবি করেন তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মালার মা নার্গিস ও তার স্বামী মামুনের কোনো হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। বিষয়টি জানার জন্য মালার মা নার্গিস ও স্বামী মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে শাশুড়ি নার্গিসের সঙ্গে তার মেয়ের জামাই মামুনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। মালাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, নাকি তিনি ঘৃণায় বা ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। মালার ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad