বাউফলে তালাবদ্ধ করে ৩ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন স্কুল সভাপতির

Bauphal Photo
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে তালা মেরে তিন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান ফরিদ। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ জুন) বাউফল উপজেলার মধ্য মদনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- অষ্টম শ্রেণির শর্মি আক্তার, খাদিজা আক্তার ও নাহিদ হোসেন।

জানা যায়, বুধবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে তাদের প্রধান শিক্ষকের অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান ফরিদ ও তার স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিতা। তিন শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের অফিসে প্রবেশ করার পরই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এরপর নাহিদকে বেত দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পেটান সভাপতি ফরিদ। একপর্যায়ে নাহিদ পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে সভাপতি লাথি মেরে তাকে ছিটকে ফেলে দেন।

এরপর সভাপতি অন্য দুই ছাত্রী শর্মি ও খাদিজাকে পিটিয়ে জখম করেন। ঘটনার পর তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে প্রধান শিক্ষকের অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের সামনে এমন নির্মম ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।

নির্যাতিত শিক্ষার্থী শর্মি ও খাদিজা জানায়, রমজান মাসে সরকারি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও অষ্টম শ্রেণি ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। আমরা কোচিং ক্লাশ করার জন্যই বিদ্যালয়ে যাই। আমাদেরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।

খবর পেয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থী শর্মির বাবা করিম রাড়ি বিদ্যালয়ে গিয়ে তার মেয়েকে পেটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন সভাপতি।  ঘটনার পর নাহিদ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সে স্কুলে যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, সভাপতির মেয়ের সঙ্গে নাহিদ মুঠোফোনে কথা বলেছে। আর কথা বলায় সহায়তা করেছে শর্মি ও খাদিজা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তিনজনকে পিটিয়ে জখম করেছেন। এদের মধ্যে নাহিদকে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার হুমকিও দিয়েছেন সভাপতি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান ফরিদ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় ঘটনার সময় ভয়ে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

সহকারী প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান ফরিদ বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। আমার মেয়েকে নাহিদ হয়রানী করছে।  এ কারণে প্রধান শিক্ষক নাহিদ, শর্মি ও খাদিজাকে মারধর করেছে।

ad