বাউফলে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন, ভূমি ধসের আশঙ্কা

Drilling machine
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে ভূগর্ভের অগভীর স্তর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ভূগর্ভ থেকে ড্রিলিং করে বালু উত্তোলন করায় ভূমি ধসের আশংকা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফলে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বিশেষ করে সড়কের নির্মাণ কাজে পরিবহন খরচ বাঁচাতে অসাধু ঠিকাদাররা ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। ভূগর্ভের অগভীর স্তর (৪০ থেকে ৬০ ফিট গভীর) থেকে ড্রিলিং করে বালু উত্তোলনের পর সড়কের বেড কেটে সাব গ্রেড এবং সাব বেইজ তৈরি করা হচ্ছে।

বাউফলে নির্মাণাধীন একাধিক সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ড্রেজিং সিষ্টেমের আদলে বিভিন্ন জলাশয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প মেশিন বসিয়ে অভিনব কায়দায় ড্রিলিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক জানায়, একটি মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ ফুট বালু উত্তোলন করা যায়। প্রতি ফুট বালুর মূল্য সাড়ে ৮ টাকা। এতে ঠিকাদারের পরিবহন খরচ প্রয়োজন নেই। নির্মাণাধীন সড়কের পাশে থাকা জলাশয় থেকে আমরা বালু উত্তোলন করি। এতে ভূমির উপরিভাগের কোন ক্ষতি নেই বলেও দাবী করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ঠিকদার ফারুক বলেন, পরিবহন খরচ অনেক, তাই বাধ্য হয়েই মাটির নীচ থেকে বালু উত্তোলন করছি।

বাউফলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারওয়ার জামান বলেন, ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ভূমি ধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে কৃষির উৎপাদন ভেঙ্গে পড়বে।

বগা ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজের ভূগোল বিষয়ের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ভূগর্ভ থেকে ড্রিলিং করে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে অচিরেই মহাবিপর্যয় দেখা দিবে।

এ প্রসঙ্গে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে কয়েকটি সাইট আমি বন্ধ করেছি। তবে ভবিষ্যতে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ad