বাগেরহাটে ডোবার কচুরিপানার মধ্যে যুবকের লাশ উদ্ধার

Jagoran- Bagerhat, young man , dead body, rescue,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে ডোবার কচুরিপানার মধ্যে কলেজ ছাত্র সবুজ বিশ্বাসের (১৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

রবিবার (১৯ আগস্ট) নিখোঁজের ছয়দিন পর চিতলমারী থানার ২০০ গজের মাথায় ব্যস্ততম বাজারের কাছে ওয়াপদা ডোবার কচুরিপানার মধ্যে থেকে পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হাজার- হাজার লোক খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

সবুজ উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের শিবপুর-কাটাখালী গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে এবং শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ঘটনার সাথে জড়িত আত্মস্বীকৃত খুনি বহিস্কৃত দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকাবাসী এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

লাশ উত্তোলনকালে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন, চিতলমারী থানার ওসি অনুকুল সরকারসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চিতলমারী থানার ওসি অনুকুল সরকার জানান, গত ১৩ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সবুজ বিশ্বাস বন্ধুদের ডাকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এদিন বন্ধুদের সাথে সে ঘুরতে যায়। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেনি।

ওসি জানান, পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন লোকের বাড়ি খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান না পেয়ে এ বিষয়ে পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিতলমারী থানায় একটি জিডি করেন। এরপর থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

মোবাইলের সূত্র ধরে গত শনিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জ শহরের মোহাম্মদ পাড়া এলাকার হাসান মৃধার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ সবুজের দুই বন্ধু লিমন ও সিব্বিরকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সবুজকে হত্যার কথা স্বীকার করে তারা।

পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি মতে ১৩ আগষ্ট রাতে চিতলমারী থানা থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসে আড্ডা দেয়ার সময় ঠান্ডা মাথায় প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয় সবুজকে। এ পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সবুজ।

এ সময় গালায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে গভীর রাতে লাশ পাশের একটি ডোবায় কচুরির নিচে গুম করে রেখে সবুজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে সিব্বির ও লিমন গোপালগঞ্জ শহরে তাদের আত্মীয় বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত লিমন খান উপজেলার আডুয়াবর্ণি গ্রামের হাসমত আলী খানের ছেলে । সে এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও সিব্বির ওই একই গ্রামের ছালাম খানের ছেলে। সে এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের আটকের সময় সবুজের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রেম টিত কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে। এ ঘটনার সাথে কোনো প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

ad