বাবা-মার ওপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা

hanging
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে বাবা-মার ওপর অভিমান করে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সামনেই ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সেফাত আরা ওরফে মুনি (২২)।

শুক্রবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার (সরস্বতীপুর) শ্যামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সেফাত আরা ওরফে মুনি শ্যামপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান তরফদার স্বপন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, শিক্ষিত ও সুন্দরী বিবিএ পাশ করা মুনি আজ সকালে মায়ের সাথে পাশের গ্রামে বেড়াতে যায়।

এক পর্যায়ে বাড়িতে ফেরার পর মা ও পরিবার-প্রতিবেশীদের সামনেই জীবন ছেড়ে দেয়ার কথা বলেই তার নিজ শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যায় মুনি। এ সময় তার মাসহ পরিবারের ও প্রতিবেশী লোকজনরা ঘরের দরজা ভাঙা শুরু করেন। কিন্তু দরজা ভাঙার আগেই ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন মুনি।

মহাদেবপুর থানার এসআই মো. আলহাজ হোসেন জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মুনির লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট শেষে থানায় একটি ইউডি মামলা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু লোকজনের সামনেই ঘড়ের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেছে, সেই কারণে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি ।

মুনির আত্মহত্যার মূল কারণ প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেউ না জানাতে পারলেও স্থানীয়দের ধারণা, কলেজ জীবন থেকেই মুনি এক যুবকের সাথে প্রেম করতো। তারা প্রায়ই মুনি তার বাবা-মাকে জানাতো, তার জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে, না পারলে কয়েক লাখ টাকা হবু জামাই বা প্রেমিকের জন্য দাবিও করা হয়েছিল।

কিন্তু দরিদ্র ইসমাইল হোসেন মেয়ের জন্য চাকরি বা মেয়ের প্রেমিকের সাথে বিয়ে দেয়ার টাকা কোনোটাই ব্যবস্থা করতে না পারায় মুনি আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়রা ধারণা।

ad