বীরগঞ্জে বন্ধুকে হত্যা, আটক ২ ঘাতক

Birganj, friend, murder, detention 2,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে মো. সুমন (১৯) নামের এক বন্ধুকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে তার অটোরিক্সা নিয়ে পালানোর সময় ঘাতক বন্ধু আনারুল (১৮) ও রবিউল ইসলামকে (২৫) দিনাজপুরের বীরগঞ্জ  থেকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের দলুয়া নামক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

নিহত মো. সুমন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বেদতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামের মো. বকুলের ছেলে।

আটককৃত মো. আনারুল কাশিরাম ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং মো. রবিউল ইসলাম একই এলাকার বেদতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী মাল্লীপাড়া গ্রামের মৃত জয়বার আলীর ছেলে।

বীরগঞ্জ থানার এসআই মো. আল-আমীন জানান, দলুয়া নামক স্থানে দায়িত্ব পালনকালে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সাকে থামার নির্দেশ প্রদান করি। কিন্তু সে নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা চালালে তাকে ধাওয়া দিয়ে চালক এবং একজন যাত্রীকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের পরিচয় জানায়। গভীর রাতে অটো নিয়ে তাদের গন্তব্য নিয়ে দুজন এলোমেলো তথ্য প্রদান করে।

বীরগঞ্জ থানার এসআই বলেন, বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে অটোরিক্সাটি তল্লাশি চালানোর সময় দেখা যায় অটোরিক্সার গায়ে সুমন এন্টারপ্রাইজ লেখাটির ওপরে ষ্টিকার লাগানো রয়েছে। এতে আমাদের সন্দেহ আরও গভীর হয়।

এসআই মো. আল-আমীন বলেন, পরে তাদের আবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা জানায়, শনিবার বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে অটোরিক্সাসহ সুমনকে ডেকে আনে বন্ধু আনারুল। তাকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জির টাইগার খাওয়ানো হয় সুমনকে।

তিনি আরও বলেন, পরে রাত সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুরের চওড়া নদীর ব্রিজের কাছে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। পরে অটোরিক্সা নিয়ে ঠাকুরগাঁয়ের পথে তারা রওনা দেয়।

বীরগঞ্জ থানার ওসি মোছা. শাকিলা পারভীন বলেন, দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আনারুল এবং রবিউল অটোরিক্সার মালিক সুমনকে হত্যা করে অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সৈয়দপুর থানাকে অবহিত করা হয়।

ad