ভালুকায় শিক্ষকের নির্যাতনে শিশু ছাত্রের মৃত্যু

Madrasa teacher, torture, child student, death,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় হাফেজ আমিনুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে তাওহিদুল ইসলাম (১০) নামের এক শিশু ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে তাওহিদ ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

তাওহিদুল ইসলাম ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের কয়েশ মিয়ার ছেলে। সে জামিরদিয়া মাদ্রাসায় ওমর (রা.) হাফিজিয়া এন্ড ইসলামী কিন্ডার গার্টেনের হেফজ শ্রেণির ছাত্র।

ঘটনার পর হতে আবাসিক ছাত্রদের মাদ্রাসায় ফেলে সকল শিক্ষকরা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। অভিবাবকরা যে যার মতো ছাত্রদের নিয়ে যাচ্ছেন।

তাওহিদের সহপাঠী নূর আলম ও মিনহাজ জানায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পড়া না পারার কারণে ওই হাফেজ মোটা একটা লাঠি দিয়ে তাওহিদকে মেরেছিল। বিষয়টি গোপন রেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ খেলা করতে গিয়ে তাওহিদ আঘাত পেয়েছে বলে তার মা-বাবার কাছে রেখে চলে আসে।

পরে তাওহিদ তার বাবা-মা ও দাদির কাছে ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তারা তাওহিদকে প্রথমে ভালুকা পরে চুরখাই কমিউনিটি ব্যাজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত রবিবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

তাওহিদের মা হাসনা হেনা জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে তাওহিদকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে ১৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল।

তাওহিদের বাবা জানান, তার ছেলেকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম পড়া মুখস্থ না করার কারণে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বুকের পাজরের হাড় ও একটি পা ভেঙে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি এর বিচার চাই।

সোমবার (৫ মার্চ) মাদ্রাসার সভাপতি আ. হামিদ জানান, বিষয়টি আমি আগে শুনি নাই। আজ সকালে জানতে পেরেছি।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশীদ জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক হাফেজ আমিনুল ইসলাম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

ad