ভৈরবে দুই গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৫০

Bhairab, clash, wounded 50,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে খাজা বাবার নামে ওরশে গানের অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারধরকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সাত ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

রবিবার (৪ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পুলতাকান্দি গ্রামের যুবকরা কালিপুরগ্রামের মস্তু ফকিরের বাড়ির এক ব্যক্তিকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কালিপুরগ্রামের লোকজন প্রতিপক্ষের দোকানঘর ভাঙচুর করেন। পরে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

এ সময় কালিপুর গ্রামের দুইটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হক মিয়ার বাড়ির সামনে জড়ো হতে বলা হলে গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে প্রায় ১৫০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

Bhairab, clash, wounded 50,

কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেছুর রহমান, ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সংঘর্ষ চলাকালে দুপুরে ঘটনাস্থলে ঝগড়া থামাতে গিয়ে নাকে ইটের আঘাতে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা সুলাইমান আহত হয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৭১ টেলিভিশনের ভৈরব প্রতিনিধি ফজলুল হক বাবু ও দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি মো. জামাল মিয়া ইটের আঘাতে আহত হন।

সংঘর্ষে আহতরা উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় বলে তাদের স্বজনরা জানান। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, ভৈরব পৌর এলাকার কালিপুর গ্রামের মস্তু ফকিরের বাড়িতে শনিবার সারারাত ধরে থানা পুলিশের অনুমতিবিহীন ওরশ মাহফিলে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। ওই গানের অনুষ্ঠানে যুবকরা নাচানাচির এক পর্যায়ে ভোর ৪টার দিকে কালিপুর ও পুলতাকান্দা গ্রামের যুবকদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে রবিবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এক পুলিশ অফিসারের দাঁত পড়ে যায় এবং ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন।

ad