মনোহরদীতে শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Teachers, assaulted, students, protests,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীর মনোহরদীর রামপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র দাসকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রবিবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় মিছিলটি রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শেষে হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান, অন্যথায় ক্লাস বর্জনের হুমকি দেন।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামপুর শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মন্দিরের পক্ষ থেকে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই এলাকার মৃত যোগেশ চন্দ্র্র দাসের ছেলে পুলিশের এসআই হরিদাস ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য উত্তম দাস ওরফে নেহারু এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিমল চন্দ্র দাসকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।

কিল-ঘুষির এক পর্যায়ে হরিদাস স্কুল শিক্ষককে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উপস্থিত এলাকাবাসী হামলাকারী ও সামাজিক অপরাধীদের বাধা প্রদান করলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, পুলিশের এসআই হরিদাস ও তার ভাই পুলিশের কনস্টেবল পিন্টু দাস খিদিরপুর ভূমি অফিসের সামনে সরকারি জমি জবর দখল করে রেখেছে। নেহারু চক্রটি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রায়শই বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

কনস্টেবল পিন্টু ও তার ভাই এসআই হরিদাস কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি-কোটি টাকার অবৈধ পাহাড় গড়েছে। পাশাপাশি হরিদাস হবিগঞ্জ, নরসিংদী সদর ও রামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় জমি ক্রয় করেছে।

বর্তমানে কনস্টেবল পিন্টু দাস ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক। এসআই হরিদাস গাজীপুর জেলার একটি ফাঁড়িতে রয়েছে বলে জানাগেছে। এছাড়া, নিজ গ্রামে পুলিশ সদস্য পিন্টু দাস ও হরিদাস কোটি টাকার বাগান বাড়ি তৈরি করেছে।

রামপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সামাজিক অপরাধী চক্রের অপরাধকে সমর্থন না করে আমি বিগত সময়ে প্রতিবাদ করেছি। এ জন্যেই আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও খিদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল জানান, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ওপর আমাদের নজর রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র দাসের ওপর যে হামলা চালিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আমি কথা বলছি। হামলাকারীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, পিন্টু দাস মাসের মধ্যে কম করেও ১২-১৪ দিন নিজ বাড়িতে অবস্থান করে। বাড়িতে অবস্থান করাকালীন সময়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হুমকি ধমকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

এলাকার সালিশি বৈঠকে হস্তক্ষেপসহ সামাজিক অপরাধী ও একাধিক মামলার আসামীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করেছে উত্তম দাস ওরফে নেহারু। এছাড়া পুলিশে লোকবল নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অল্পদিনের ব্যবধানে অবৈধ টাকার মালিক হওয়ার দাপটে যেকোনো সময় যে কারোর ওপর চক্রটি চড়াও হয়ে পড়ছে। এই তিন সহোদরের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

ad