মেয়েকে হত্যার পর জামাইকে নিয়ে লাপাত্তা মা! 

Girl, murder, son in law, missing, mother,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে নার্গিস বেগম নামের এক নারী নিজের মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মেয়ের জামাইকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (২ মে) রাতে মালাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাশুড়ি ও জামাই মিলে খাবারের সঙ্গে বিষ মেশান। খাবার খেয়ে মালা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার নাম করে মালাকে তারা বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে মালার লাশ তার চাচা হেলাল হাওলাদারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাউফলের মদনপুরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মালার লাশ দাফন করা হয়।

ঘটনার পর থেকে মালার মা নার্গিস ও তার স্বামী মামুনের কোন হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। বিষয়টি জানার জন্য মালার মা নার্গিস ও স্বামী মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা শ্বাশুড়ির সঙ্গে জামাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে মালাকে হত্যা করা হতে পারে।

মালার চাচা হেলাল হাওলাদার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাতিজি মালা মারা গেছে এ খবর পেয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে শিশু সন্তান মোস্তাফিজকে নিয়ে মালার মা নার্গিস ও জামাই মামুন উধাও হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরে বিষয়টি কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ মালার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মালাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের কাদের ঢালীর ছেলে মামুনের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মালার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের মোস্তাফিজ নামের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।বিয়ের পর থেকে সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন মালা।

সম্প্রতি মালার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার মারা যান। মায়েরএকাকীত্ব দূর করতে মালা তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

এ সুযোগে মালার মা নার্গিস বেগমের সঙ্গে তার স্বামী মামুন ঢালীর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। একাধিকবার মালা তার মা নার্গিস বেগম ও স্বামী মামুনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন।

বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে মালার একাধিকবার ঝগড়া হয়। এরপরই পথের কাটা দূর করতে নার্গিস ও তার মেয়ের জামাই মামুন সুযোগ খুঁজতে থাকে।

সোমবার (৭ মে) বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে শাশুড়ি নার্গিসের সঙ্গে তার মেয়ের জামাই মামুনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

তিনি বলেন, মালাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি ঘৃণায় বা ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। মালার ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad