মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ সপ্তাহ পানি নেই!

Mongla Upazila Health Complex,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন সপ্তাহ ধরে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নেই। দৈনন্দিন খাবার ও ব্যবহৃত পানির যোগান না থাকায় রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। পৌরসভার পানি সরবরাহ কম ও হাসপাতালের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

১৯৯৬ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৭ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ বন্দর এলাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ভরসা একমাত্র এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

তীব্র গরম আর আবহাওয়াজনিত কারণে বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী আসছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। গড় ভর্তি থাকার সংখ্যাও অর্ধশত।

এসব রোগীর সঙ্গে আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে এসে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। রোগীদের খাওয়া, গোসল, হাত-মুখ ধোয়া এমনকি টয়লেটের পানিও মিলছে না। এ অবস্থায় হাসপাতালের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টার্ফ নার্স দীপ্তি মল্লিক দৈনিক জাগরণেক জানান, শুধু রোগীরাই নন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সরাও রয়েছেন বিশুদ্ধ পানির এ সংকটের মধ্যে। অপারেশন ও ডায়রিয়াসহ অন্য জটিল রোগীদের চিকিৎসা শেষে হাত-মুখ পরিস্কার করার জন্যও তারা পানি পাচ্ছেন না।

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পানির একমাত্র উৎস নিজেদের পুকুর ও একটি গভীর নলকূপ। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের পুকুরটি শুকিয়ে তলদেশের মাটিও চৌচির হয়ে আছে। নলকূপের পানিও উঠছে না। যে সামান্য পানি উঠে তা লবণাক্ততায় ভরা। এ পানি মুখে দেয়া যায় না।

সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীরা বাইরে থেকে ডোবা-নালা ও নিকটবর্তী পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের কেউ কেউ বোতলজাত পানি কিনে আনছেন।

এখানে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, পানির অভাবে তারা গোসল, টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না। এ কারণে হাসপাতালের টয়লেট ও অভ্যন্তরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এমনকি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের স্যালাইন মেশানোর জন্যও পানি সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, পৌরসভা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা যৎসামান্য। এ পানিতে রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুই ঘণ্টার চাহিদাও পূরণ হয় না। অন্যদিকে নিজস্ব পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। যে কারণে হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

ad