মোংলা বন্দরে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, তদন্তে দুদকে

Mongla
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: জাল সার্টিফিকেট, কোটা ও বয়সসীমা জালিয়াতি করে মোংলা বন্দরে চাকরি নেয়ায় কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তলব করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিভাবে তারা অনিয়ম করে চাকরি নিয়েছে সে ব্যাপারে দুদক তদন্ত নেমেছে বলে জানাগেছে।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের অফিস পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়ম করে বন্দরের বিভিন্ন কর্মস্থলে কয়েকশ লোকজনকে চাকরি পাইয়ে দেন বন্দরের কর্মচারীদের সংগঠন (সিবিএ)। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সিবিএ হস্তক্ষেপ করায় এসব অনিয়ম হয়ে আসছে বলে জানান চাকরি প্রত্যাশীদের অবিভাবকরা।

মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী ও একজন চাকরি প্রত্যাশীর অভিভাবক শাজাহান সিদ্দিকী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোংলা বন্দরে যেভাবে নিয়োগ বাণিজ্য চলছে তাতে আমাদের ছেলে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করেও চাকরি পাবে না। বন্দরের সিবিএ’র নেতাদের কাছে ঘুষ নিয়ে গেলেই চাকরি হয়ে যায়। এতে কোনোদিন মেধাবীদের চাকরি হবে না।

জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নেওয়া মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জলযান এমটি সারথী-২ এর ভান্ডারী (রাধুনী), ফজলুল হক, এমটি মেঘদূতের হাবিবুর রহমান এবং সারোয়ার মুন্সি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সিবিএ’র সংগঠনের নেতা পল্টু ও সাকিবকে জিজ্ঞাসা করেন, তারাই আমাদের হয়ে কথা বলবেন, আমরা কিছুই বলতে পারবো না।

সারোয়ার মুন্সি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান সাকিবের বোন জামাই (ভগ্নিপতি)। সাকিবের ছোট ভাই মহসিন হোসেন বাদশাও জন্ম সনদ জাল (স্ক্যানিং) করে বয়স কমিয়ে সিনিয়র আউটডোর এ্যাসিসন্টে হিসেবে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, খোরশেদ আলম পল্টু এবং মতিউর রহমান সাকিব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই বেসামাল হয়ে ওঠেন। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তালিকা ধরে নিয়োগ বাণিজ্যে নেমে পড়েন।

তবে পল্টু ও সাকিব এ অভিযোগ হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা,বানোয়াট ও ভুয়া। তারা বন্দরের নিয়োগ কমিটিকে স্বাভাবিক কাজ করতে সহযোগিতা করেন বলে দাবী করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনিয়ম করে চাকরি পাওয়ায় বন্দরের ৩২ জন কর্মচারীকে দুদক ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

খুলনার দুর্নীতি দমন কমিশনের ডিডি নীল কমল পাল দৈনিক জাগরণকে বলেন, জাল সার্টিফিকেট, কোটা ও বয়সসীমা জালিয়াতি করে যারা মোংলা বন্দরে চাকরিতে নিয়োগ নিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠাদের তদন্তের স্বার্থে ডাকা হচ্ছে। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বন্দরের পার্সোনাল শাখার একটি সূত্র জানায়, গত ২০১৩ ও ১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ৩১২ জন কর্মচারীর অধিকাংশের বিরুদ্ধেই অযোগ্যতার অভিযোগ উঠায় চলতি বছরের জুলাই মাসে দু’দফায় ২৮ জনকে তলব করে পুনরায় পরীক্ষা নিয়েছে দুদক।

ad