ময়মনসিংহের ৬৯ প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব

Mymensingh Primary School
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার ৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদের দাবিদার দুইজন করে।

এদিকে, বিদ্যালয়গুলোতে দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে ক্লাস পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাঠদান প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান, চলতি বছরের ২২ মার্চ জেলার প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে মোট ৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে শিক্ষক পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে ১০টি উপজেলার ৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, এই স্কুলগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৮টি, তারাকান্দায় ১৮টি, ফুলপুরে ২টি, হালুয়াঘাটে ৯টি, গৌরিপুরে ১০টি,  ঈশ্বরগঞ্জে ৬টি, মুক্তাগাছায় ৯টি, ত্রিশালে ৪টি, ভালুকায় ২টি এবং নান্দাইল উপজেলায় ১টি বিদ্যালয়ে মামলার অজুহাত দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা।

তারাকান্দা উপজেলার পাথারিয়া সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন পদায়নকৃত প্রধান শিক্ষক বিনয়কান্তি সরকার বলেন, গত ২২ মার্চ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব দিয়ে পাথারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করেন। আমি সেই নির্দেশক্রমে বিদ্যালয়ে যাই। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। আমাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেও দেননি। পরবর্তীতে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

হালুয়াঘাট উপজেলার পশ্চিম কুতিকূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন পোস্টিং পাওয়া প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই স্কুলে চলতি দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেন আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। আমার মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্ব কাউকে দিব না। তারপর আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে আসি।

এ বিষয়ে এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই স্কুল আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখানে আমিই প্রধান শিক্ষক থাকব। আমি মামলা করেছি, মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্ব অন্য কাউকে দেব না।

তারাকান্দা উপজেলার পাথারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, আমরা যারা নব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রয়েছি সবাই মামলা করেছি আমাদের প্রধান শিক্ষক পদ বহাল থাকার জন্য। তবে সবাই যদি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় নতুন প্রধান শিক্ষককে আমিও আমার দায়িত্ব ছেড়ে দিব।

তারাকান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন জানান, যে সকল বিদ্যালয়ে এই সমস্যা রয়েছে তারা প্রত্যেকে আদালতে মামলা করেছেন। তবে মামলায় কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই যে এই বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা যাবে না। আর তারা প্রত্যেকে সহকারী শিক্ষক পদে গেজেটভুক্ত। যারা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানানো হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন আরও বলেন, রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়েছে ২০০৮ সালে। এই বিদ্যালয়গুলোতে যারা প্রধান শিক্ষক হিসেবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেতে পারেন। আর যারা মামলা করে প্রধান শিক্ষক পদে থাকতে চাইছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক নিয়ে সৃষ্ট সমস্যায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। বছরের মাঝপথে এসে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন মহলে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকরা।

ad