যশোরে মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষী খুন

Jagoran- Jessore, case against humanity, witness, murder,
ad

জাগরণ ডেস্ক: যশোরের বাঘারপাড়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় তফসির মোল্যা (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার প্রেমচারা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তফসির মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাঘারপাড়ার আমজাদ হোসেনের মামলায় সাক্ষী ছিলেন।

তফসির মোল্লা বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে বাড়ির লোকজন তার গলাকাটা দেখতে পান।

নিহতের চাচাতো ভাই ইয়াহহিয়া রহমান জানান, মামলায় সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করেছিল অভিযুক্ত আমজাদের ছেলে খোকন ও তার বাহিনী। তারপরও তফসির তার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় আমজাদ হোসেনের লোকজন তাকে খুন করেছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে তফসির মোল্যা বাঘারপাড়ার প্রেমচারা গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করে।

বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন বলেন, আমজাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের জেরে দুই মাস আগে জবেদ আলী নামে আরও একজন খুন হয়েছিলেন।

পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল আলম। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়, যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের মৃত সোবহান মোল্লার ছেলে আমজাদ হোসেন মোল্লা বাঘারপাড়া থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন।

১৯৭১ সালে মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। যশোর জেলা প্রশাসকের দেওয়া রাজাকারদের তালিকাতেও আমজাদ মোল্লার নাম রয়েছে।

আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে বাঘারপাড়ার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. ময়েনউদ্দিন ওরফে ময়নাকে গুলি করে হত্যা, বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারের ডা. নওফেল উদ্দিন বিশ্বাসকে গুলি করে করে হত্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী সুরত আলী বিশ্বাস, মোক্তার বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা এবং মাগুরার শালিখা থানার সীমাখালী বাজার ঘাটের মাঝি রজব আলী বিশ্বাসকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়।

ad