যেভাবে খুন করলেন, সেভাবেই খুন হলেন!

Millat
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় মিল্লাত তারাশী (৩২) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আট বছর আগে ২০১০ সালে একই কায়দায় আশানুর মিয়া নামে একজনকে হত্যা করেছিলেন মিল্লাত তাড়াশীসহ পাঁচজন।

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় আশানুর হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী মিল্লাত। তার মৃত্যুতে আশানুরের পরিবার একে প্রকৃতির বিচার হিসেবে ধরে নিয়ে এক প্রকার শান্তনা পেয়েছেন। তবে কোনো হত্যাই যে কাম্য নয় সেটা জানিয়েছেন তারা।

গত ২৯ জুন বিকালে মাসকান্দা পুলপাড় মহল্লার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মিল্লাত তারাশীকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওইদিন রাতে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

জানা যায়, ২০১০ সালের ৫ নভেম্বর একই এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মটর মিস্ত্রি আশানুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাশের ধানক্ষেতে কুপিয়ে হত্যা করে মিল্লাত তারাশী ও তার সহযোগিরা। ঘটনার পর দিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মিল্লাত তারাশীকে প্রধান আসামী করে পাঁচজনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে।

নিহত আশানুরের বড় বোন রেজিয়া খাতুন বলেন, মিল্লাত তারাশী এবং আমার ভাই এক সাথে চলাফেরা করতো। তাদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরেই ৮ বছর আগে আশানূরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মিল্লাত এবং তার সহযোগিরা।

তিনি বলেন, ঘটনার এতো বছর পরেও আমরা বিচারের মুখ দেখছিলাম না। তারা জামিনে এসেও আমাদেরকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাতো। আমার ভাইকে মিল্লাত তারাশী যে ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাকেও মানুষ সে ভাবে মেরেছে। আজ আমরা ভাই হত্যার বিচার পেয়েছি এর চাইতে বড় কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। বাকি হত্যাকারীদেরও এরকমভাবে বিচার হবে সেই প্রত্যাশা করছি।

১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বলেন, মিল্লাত তারাশীর রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছিল না। তবে সে যুবলীগের লোকজনের সাথে ঘোরাফেরা করতো।

তিনি বলেন, মিল্লাত তারাশী আশানুর হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। সেও একইভাবে মারা গেল। তবে কোনো হত্যাকাণ্ডই কাম্য নয়। এর বিচার হওয়া উচিত।

স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, মিল্লাত তারাশী হত্যার পর মাসকান্দা বাসন্ট্যান্ড এলাকা শান্ত হয়েছে। সে মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানায়ও মাদক মামলা রয়েছে।

মিল্লাত তারাশী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৩০ জুন শনিবার রাতে তার স্ত্রী লাভলী আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় ১১ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

লাভলী আক্তার জানান, একটি মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র পূর্ব শত্রুতার জেরেই তার স্বামীকে হত্যা করেছে আসামীরা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূর মোহাম্মদ বলেন, তারাশী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাব্বি নামে এোহারভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ad