যৌতুকের জন্য পুত্রবধূর মাথা ফাটাল শ্বশুর-শাশুড়ি

Daughter-in-law, head, hit, father-in-law, mother-in-law
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে যৌতুকের জন্য পুত্রবধূ মনিরা আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়েছে তার শ্বশুর মালেক আকন ও শাশুড়ি মাহিনুর বেগম।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত মনিরাকে উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী মনিরার বাবার কাছে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী আল আমিন। মেয়ের সুখের জন্য মনিরার বাবা শানু মৃধা দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দেন। এ বছর আগষ্ট মাসের শুরুতে পুনরায় দেড় লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আল আমিন। এ টাকা দিতে স্ত্রী মনিরা বেগম অস্বীকার করে। এ নিয়ে প্রায়ই মনিরাকে মারধর করতো।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আল আমিন কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে মনিরার শাশুড়ি মাহিনুর বেগম তাকে ডেকে বলে দেয় আমার ছেলে তোকে তালাক দিয়েছে তুই বাড়ি থেকে চলে যা। এ কথা শুনে মনিরা বলেন, আমার স্বামী এসে আমাকে বললে আমি চলে যাব, আপনাদের কথায় যাব না।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় মনিরাকে গলায় গামছা দিয়ে বেঁধে ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় শ্বশুর-শাশুড়ি। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে মনিরার মাথা কেটে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শ্বশুর-শাশুড়ি মনিরাকে মৃত্ ভেবে ঘরের মধ্যে রেখে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মনিরা তার শ্বশুর-শাশুড়ির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন।

আহত মনিরা আক্তার বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গলায় গামছা বেঁধে ফাঁস দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত শাশুড়ি মাহিনুর বেগম মারধরের কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, আমার ছেলে বউকে তালাক দিয়ে তিনদিন আগে মালয়েশিয়া চলে গেছে।

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad