যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্বা স্ত্রীর কবজি কাটল স্বামী!

kop
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলায় বিয়ের আট মাস না যেতেই যৌতুকের টাকা না পেয়ে কুলসুম বেগম (১৯) নামের এক অন্তঃসত্বা গৃহবধূর ডান হাতের কবজি কেটে দিয়েছে তার স্বামী লিটন মিয়া (২৫)।

মঙ্গলবার (৩ জুলাই) শেরপুরের মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী আলমগীর কিবরিয়ার সহযোগিতায় এ ঘটনায় কুলসুম বাদী হয়ে স্বামী লিটনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতের বিচারক (জেলা জজ) আখতারুজ্জামান মামলাটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৩ জুন সদর উপজেলার কসাইপাড়াস্থ স্বামীর বাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় কুলসুমের ওপর এ নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এর আগেও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এই নববধূ।

কুলসুম বেগম শেরপুর সদর উপজেলার বাদাতেঘরিয়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার মেয়ে। গত আট মাস আগে ঝিনাইগাতী উপজেলার কসাই পাড়া গ্রামের মৃত কুদরত আলীর ছেলে লিটন মিয়াকে (২৫) ভালোবেসে তিনি বিয়ে করেছিলেন। লিটন পেশায় একজন কসাই। বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুলসুমকে মেনে নিতে পারেনি।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, কুলসুম বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্বা। বিয়ের পর থেকেই লিটন তার অন্য ভাই ও স্বজনদের প্ররোচনায় এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে কুলসুমের ওপর অসহনীয় অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

কুলসুম যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী ও অন্যরা কুলসুমকে অনৈতিক ও অসামাজিক (দেহ ব্যবসা) কাজ করে অর্থ উপার্জন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কুলসুম এ ধরনের অসামাজিক কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৩ জুন বেলা ৩টার দিকে স্বামী লিটন, তার চার ভাই রিপন, উজ্জ্বল, নূর ইসলাম ও রবি এবং আত্মীয় শফিকুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অসহায় কুলসুমের ওপর আক্রমণ চালায়।

তারা দা, ছুরি ও ডেগার নিয়ে কুলসুমের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে জখম করেন। এক পর্যায়ে লিটন তার হাতে থাকা মাংস কাটার কোপা দা দিয়ে স্ত্রী কুলসুমের ডান হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

পরে স্থানীয় লোকজন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান।

দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন তার বাবার বাড়িতে।

কুলসুম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদকর্মীদের বলেন, আমি ভালবেসে লিটনকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু এরজন্য এত বড় মাশুল দিতে হবে তা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই আমার ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানান।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, আদালতের আদেশটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মামলার সকল আসামীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং তাদেরকে নিজ বাড়িতেও পাওয়া না যাওয়ায় কুলসুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে কারোর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ad