রাজাপুরে বিদ্যালয়ের জমি দখল করলেন শিক্ষক!

School, occupation of land, head teacher,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরে ৯৯নং উত্তর-পূর্ব ছোট কৈবর্তখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই জমিতে কলাবাগান করে তা দখলে নিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত রুহুল আমিনকে ইতোমধ্যেই দুর্নীতি সংক্রান্ত অন্য এক অভিযোগে উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

অভিযোগে সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ৯৯নং উত্তর-পূর্ব কৈবর্তখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. রুহুল আমিন। সেই সুবাদে বিদ্যালয়ের জমিসহ যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন তিনি।

বিদ্যালয়ের নামে দুইটি দলিলে মোট ৫৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এরমধ্যে ১৯৯১ সালের ২৯ আগষ্ট প্রথম দলিলে ৩৫ শতাংশ ও ১৯৯৪ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় দলিলে ১৮ শতাংশসহ মোট ৫৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের পক্ষে শিক্ষা সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে রেজিষ্ট্রি হয়।

সম্প্রতি রুহুল আমীন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে জানান, বিদ্যালয়ের যে জমি রয়েছে তার ১২ শতাংশ বিদ্যালয়ের এবং বাকি ৪১ শতাংশ তার নিজের জমি। এই ঘোষণা দিয়ে সম্প্রতি রুহুল আমিন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি কেটে কলাবাগান তৈরী করেন।

এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে রুহুল আমীন জমির রেকর্ড দেখতে বলেন স্থানীয়দের। স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সম্প্রতি উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ৪১ শতাংশ জমি রুহুল আমীন তার নিজের ও আত্মীয়দের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হওয়া টাকা আত্মসাত, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নিজের বাড়িতে নিয়ে ব্যবহার করা, শিশু শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। বিদ্যালয়ের কোনো জমি আমি নিজের নামে নেইনি, ওসব জমি আমারই।

বিদ্যালয় থেকে বদলির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। সে কারণে আমাকে বদলি করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি জমি আত্মসাত করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দখলমুক্ত করতে ল্যান্ড সারভেয়ারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করা হবে।

ad