রাজাপুর-বাদুরতলা সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

Rajapur-pho
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদর থেকে বিশখালী নদীর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। নানা কারণে উপজেলাবাসীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ওই পথ। রাজাপুর-বাদুরতলা সড়ক নামে পরিচিত সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন উপজেলাবাসীর কষ্টের অন্যতম কারণ। সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় এটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

একই অবস্থা জেলার চার উপজেলার বেশিরভাগ সড়কের। কার্পেটিং উঠে সড়কগুলো পরিণত হয়েছে ধূলার রাজ্যে। এতে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন সড়ক দিয়ে চলাচল করা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও কুষকরা।

ঝালকাঠি এলজিইডি সূত্র জানায়, জেলার চার উপজেলায় এলজিইডির ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক রয়েছে। দীর্ঘদিনে সংস্কার না হওয়ায় জেলার এসব সড়কের মোট ৪ হাজার ১৬৩ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভেঙেচুড়ে একাকার হয়ে গেছে। সড়কগুলো দিয়ে যান চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে যাওয়াটাও এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলায় কার্পেটিং সড়ক রয়েছে ৪৯০ কিলোমিটার, ইটের সড়ক রয়েছে ৪৬৭ কিলোমিটার, ঢালাই সড়ক ১২ কিলোমিটার। বাকি সড়ক মাটির। তাও বর্ষার দিনে কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, রাজাপুর সদর থেকে বিশখালী নদী পর্যন্ত সড়কটি বাদুরতলা লঞ্চঘাটে গিয়ে শেষ হয়েছে। সড়কটি যদি ট্রাক চলাচলের উপযোগী করা যায় তবে লঞ্চঘাট থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে তা বড় ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘদিন সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারে নেই কোনো উদ্যোগ।

পূর্ব রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম খসরু জানান, ধুলোময় সড়কটির কারণে সব সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও প্রচণ্ড ধুলোর কারণে সড়কের পাশে বসবাস করা মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজাপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ফেরদৌস বাদল জানান, আমাদের প্রতি সপ্তাহে কাপড় কিনতে ঢাকায় যেতে হয়। কাছে লঞ্চঘাট থাকলেও ঝালকাঠি অথবা বরিশালে গিয়ে ঢাকার লঞ্চে উঠতে হয়। ফলে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি হয়। যদি বাদুরতলা সড়কটি সংস্কার করা হতো, তাহলে অল্প সময়ে এবং অল্প খরচে রাজাপুরবাসী ঢাকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে পারতো।

রাজাপুর স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফার রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে কিন্তু প্রশস্ত করার বিষয়ে বর্তমানে কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং আরও ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তা পেলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়কগুলো নির্মাণ করা হবে।

ad