রাজীবপুরে সাংবাদিককে মারপিট করলেন চেয়ারম্যান!

Rajibpur
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় রমজান মাসের বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ খাতে চালের পরিবর্তে আনুপাতিক হারে গম বরাদ্ধের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহের সময় আব্দুস ছাত্তার জীহাদি নামে এক সাংবাদিককে লাঞ্চিত করেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য।

শুক্রবার(২৩ জুন) দুপুর আড়াইটায় রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল ও ইউপি সদস্য বাবু মিয়া ওই সাংবাদিককে লাঞ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ছাত্তার সাংবাদিক অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান প্রথমে তাকে মার শুরু করে পরে মেম্বার ও দফাদার গিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে সাংবাদিককে মারপিট করে। পরে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুস ছাত্তার জীহাদি বলেন, ভিজিএফ গম বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হই। গিয়ে দেখি ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এবং একই ব্যক্তি একাধিক লোকের মাষ্টার রোলে টিপ সই দিচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান আমাকে কিল ঘুষি মারতে থাকে এরং আমার শ্বাসনালী চেপে ধরে। পরে চেয়রম্যানের সাথে ১ নং ওয়ার্ড সদস্য বাবু মিয়া এসে আমাকে মারপিট করে। আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় গায়ের পাঞ্জাবি ছিড়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তারা প্রকাশ্য আমার ওপর হামলা করেছে। আমাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত রাজীবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বলেন, ওই সাংবাদিক মিথ্যা নিউজ করে তাই পরিষদ থেকে চলে যেতে বলেছি। মারার বিষয়টি সঠিক নয়।

সাংবাদিক আব্দুস ছাত্তার ঢাকা থেকে প্রকাশিত  দৈনিক আনন্দবাজার, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মোমেনশাহি, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণজয় পত্রিকার রাজীবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন, রাজীবপুর প্রেসক্লাব,সাংবাদিক ফোরাম,রৌমারী প্রেসক্লাব,রৌমারী উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। চেয়ারম্যান মেম্বার মিলে সাংবাদিকের উপর হামলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ।

ad