রাজীবপুরে ১০ টাকার চাল নিয়ে গোলাগুলি, আহত ১০

Rajibpur
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড ঘটে গেছে। তালিকাভুক্তদের চাল না দেয়ার জের ধরে ডিলার ও চেয়ারম্যানের লোকজনের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘরও ভাঙচূর করা হয়।

বুধবার ও বৃহষ্পতিবার উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে দু’দফায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  এসব ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চেয়ারম্যানের দুই ভাতিজা বিপ্লব রহমান (২৬) ও মাহফুজুর রহমানকে (২৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত টহল বসানো হয়েছে।

জানাগেছে, বুধবার চাল দেয়া আর না দেয়াকে কেন্দ্র করে কামাল হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে মারপিট করে ডিলারের লোকজন। এ ঘটনার তদন্ত করার জন্য রাজীবপুর থানা পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ডিলারের লোকজন পরিষদে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানকে নাজেহাল করে। পরে চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধে।

এতে মোট ১০ জন আহত হয়। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজন বিক্ষোভ মিছিলসহ ডিলারের স্বজন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।পুলিশ। অভিযুক্ত ডিলার তোতা প্রমাণিক কোদালকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

কোদালকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, আমার ওয়ার্ডভুক্ত এলাকায় ২৬২ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। ডিলার সবার কার্ড তার নিজের হেফাজতে নিয়ে নেয়। বলে মার্চ এপ্রিল দুই মাসের চাল এক সঙ্গে দিবে। সুবিধাভোগীরা চালের জন্য গেলে ডিলার তাদের চাল না দিয়ে ফেরত দেয়। এ অবস্থায় আমি তাদের সঙ্গে নিয়ে গেলে ডিলার তোতা প্রমানিক ও তার ভাইরা আমাদের মারধর করে। একই ধরনের অভিযোগ করেন অন্যান্য ওয়ার্ডের মেম্বার ও তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা ।

কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছুক্ক বলেন, ওই ডিলার প্রতিবারই সুবিধাভোগীদের নামের চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। আমি একাধিকবার তাকে সর্তক করেছিলাম।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিলার তোতা প্রমানিক কালোবাজারে চাল বিক্রির কথা অস্বীকার করে কলেন, প্রথম দিন বুধবার চাল বিতরণের সময় কামাল হোসেন মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের কিছু চেলাচামচা আমাকে বাধা দেয়। বলে তাদের আলাদা সুবিধা দিতে হবে। আমি না দিলে তারা কয়েক বস্তা চাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। আমার লোকজন বাধা দিতে গেলে ওই হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপঙ্কর রায় জানান, ওই ডিলার চাল কালোবাজারে বিক্রির বিষয়টি চেয়ারম্যান মেম্বাররা আমাকে জানিয়েছে। আতি তাদের অভিযোগ দিতে বলেছি।

রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ডিলার তোতা প্রমানিককে কুড়িগ্রাম কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

গুলিবর্ষণের বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম বলেন, ওখানে গুলিবর্ষণ হয়েছে এটা আমি বলব না। সংঘর্ষের সময় নানা ধরনের শব্দ হয়। তদন্ত করে দেখব যে আসলে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা।

ad