শিবপুরে লটকনের বাম্পার ফলন

lotcon pic
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এবার লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। সামনেও আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার লটকন থেকে বেশ ভালো লাভ করতে পারবেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে লটকনের বাগান রয়েছে। চারা রোপণ করার ৫/৬ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে। লাল মাটি ও ছায়াযুক্ত টিলা পাহাড়ে লটকন চাষের জন্য উপযোগি।

জয়নগরের কৃষক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এক সময় পাহাড়ি এলাকায় কাঁঠালের ব্যাপক ফলন হতো। বর্তমানে অনেকে কাঁঠাল বাগান বাদ দিয়ে লটকন বাগান করছেন। উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে সকলের বাড়িতে কম বেশি লটকনের চাষ করা হয়ে থাকে। লটকন বাগানে খুব একটা খরচ করতে হয় না।

আজকিতলা গ্রামের লটকন বাগান মালিক লোকমান হোসেন বলেন, আমার বাবা ডা. আ. আজিজ প্রথম অল্প কিছু জমিতে লটকন বাগান করেন। পরবর্তীতে লটকনের আবাদ করে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভ করে। বর্তমানে আমাদের ১৮ বিঘা জমিতে লটকনের বাগান রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় গাছে রেখে পাইকাদের নিকট ৩১ লাখ টাকা বিক্রি করি।

লটকন চাষি আয়েস আলি বলেন, আমি গত চার/পাঁচ বছর ধরে লটকন চাষ করছি। দুই বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে ৩ লাখ লাখ টাকা আয় করি। কৃষক মোমেন বলেন, আমি পাইকারিভাবে দেড় লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পাইকাররা ছোট বড় বাগানে গিয়ে এক মাস আগেই গাছে থাকা কাঁচা লটকন প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় ক্রয় করেন। জুলাই মাসে প্রথম দিক থেকে লটকন বিক্রি শুরু হয়।

নরসিংদী জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে শিবপুর উপজেলায় লটকনের ফলন বেশি হয়ে থাকে। দুই যুগ আগেও এই ফলটির কদর ছিল না। পুষ্টিকর ও সুস্বাধু হওয়ায় দিন দিন রসালো এই ফলটির দেশে ও বিদেশে চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছেএই ফল।

শিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভাল হয়েছে। চাষিরা এবার ভালো লাভের মুখ দেখবে। কৃষি অফিস থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

ad