শিবালয় অক্সফোর্ড একাডেমীর ৪০ পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই

Oxford academy, 40 families, Eid, no
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঈদের আগে বেতন ভাতা না পাওয়ায় ‘শিবালয় অক্সফোর্ড একাডেমী’র’ ৪০টি পরিবারে এবার ঈদ আনন্দ নেই। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পরিষদ না থাকায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত চার মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

অক্সফোর্ড একাডেমীর সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, বেতন-ভাতা না পাওয়ায় ঈদে আমার কোন কেনাকাটাও নাই, আনন্দও নাই। অন্যের কথা বলতে পারবো না। আমি খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। মনে করছিলাম ঈদের আগে বেতন পেয়ে, পরিবারের জন্য নতুন জামা-কাপড়সহ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করব। কিন্ত তা হলো না । ঈদের কেনাকাটা করতে না পেরে এখন শুধু কান্না আসছে।

জানা গেছে, উপজেলায় সুনামধন্য বিদ্যাপীঠ ‘শিবালয় অক্সফোড একাডেমী’। এ বিদ্যালয়ে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। গত ১১ জুন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন তারা। কিন্ত তাতেও কোন লাভ হয়নি।

ঈদের আগে বেতন-ভাতা না পেয়ে হতাশা বিরাজ করছে ওই ৪০টি পরিবারে। স্ত্রী-সন্তানকে নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে না পেরে ম্লান হয়ে গেছে তাদের ঈদের আনন্দ। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০১৪ সালের ১০ মার্চ ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন। ওই মাসের ১৪ তারিখে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে পুনর্বহাল বা স্থায়ী বরখাস্ত করতে পারেনি কমিটি। এমতাবস্থায় কমিটি কর্তৃক রেজুলেশনের মাধ্যমে আফজাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হতে থাকে।

দীর্ঘ দিনেও এডহক কমিটি গঠন করতে না পারায় ২০১৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যাংকে আবেদন করে একাডেমীর ব্যাংক হিসাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হতে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ গত ১৯ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন খানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুনর্বহাল করেন। তাদের দু’জনের স্বাক্ষরে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন করলে তা মেয়াদ উত্তীর্ণ সর্বশেষ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের দৃষ্টিগোচর হয়।

এ পরিস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষককে পদায়ন বিধি সন্মত হয়নি মর্মে ব্যাংক ম্যানেজারকে অবহিত করা হয়। এতে ম্যানেজার গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাদের স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন।

শিবালয় উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অক্সফোর্ড একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, গত ১৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা বরাবর আবেদন করা হয়। বোর্ড গত ৩০ এপ্রিল আমাকে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেন। সে মোতাবেক গত ২ মে অভিভাবক প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করা হয়। তিনি অদ্যাবধি অভিভাবক প্রতিনিধি মনোয়ন দেননি। কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় বেতনাদি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, একটি স্কুলে দু’জন প্রধান শিক্ষক থাকতে পারে না। আফজাল হোসেন এখন আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নয়। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন আব্দুল মতিন। যে কারণে আফজাল হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিনিধি মনোয়ন দেয়া সম্ভব নয়।

ad