শীতলক্ষ্যা নদ থেকে দই বিক্রেতার লাশ উদ্ধার

muddy dead body, rescue,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নিখোঁজের ৫২ ঘন্টা পর নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদ থেকে দই বিক্রেতা জমির আলীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় তারাব পৌরসভার দক্ষিণ রূপসী এলাকার শীতলক্ষ্যা নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

জমির আলী রূপসী এলাকার আসগর আলীর ছেলে। গত শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে নোয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেনের দুই সহযোগী তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

নিহত দই বিক্রেতার স্ত্রী রেখা আক্তার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল খালেকের বরাত দিয়ে তার চাচা আব্দুল চৌধুরী বলেন, নোয়াপাড়া এলাকার নাজিমউদ্দিনের ছেলে আমিরের কাছ থেকে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে ২০ হাজার টাকা ধার নেন জমির আলী। এরমধ্যে গত ১০ দিন আগে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

বাকি ১০ হাজার টাকা চলতি মাসের ১২ তারিখ পরিশোধ করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যথাসময়ে টাকা না পেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমিরের সহযোগী একই এলাকার জাহাঙ্গীর ও মতিনের সহযোগিতায় জমির আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে দক্ষিণ রূপসী খেয়াঘাটে নিয়ে জমির আলীকে তারা বেধড়ক পেটায়। স্থানীয় চা দোকানদার আব্দুল খালেক জমির আলীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও মতিন জমির আলীকে অচেতন অবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদে ফেলে দেয়।

আব্দুল খালেক এ খবর বাড়িতে পৌঁছালে নিহত জমির আলীর ভাতিজারা তাকে শীতলক্ষ্যা নদে খোঁজাখুজি করেন। দীর্ঘ প্রায় আট ঘন্টা খুঁজে না পেয়ে তারা বাড়িতে ফিরে আসেন।

প্রায় ৫২ ঘন্টা নিখোঁজের পর রূপসী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদে জমির আলীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টার একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। জমির আলী গাঁজা সেবন করে শীতলক্ষ্যায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে- এমন অভিযোগ তুলে ওই পক্ষটি অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা এখনও কোনো ক্লু পাইনি। সন্ধ্যার পর আত্মীয় স্বজনরা আসবে। তখন বলতে পারবো আসলে কি ঘটেছিল।

ad