শেরপুরের পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে ৩২ ‘মিথ্যা’ মামলা 

Sherpur, against the Pahari, 32 cases,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক বন কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন শতাধিক পাহাড়ী পরিবারের সদস্য। উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক বন আইনে মোট ৩২টি মামলা দায়ের করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বনবিভাগের করা ওইসব মামলা সবই মিথ্যা বানোয়াট। শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্য নিয়ে ওই মামলাগুলো করা হয়েছে।

গজনী বিট কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার গজনী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন আব্দুর রফিক। এরপর থেকেই পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নামে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্য বন আইনের বিভিন্ন ধারায় ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। যার বিপরীতে আসামী করা হয়েছে শতাধিক পরিবারের সদস্যদের।

ভুক্তভোগী হালচাটি গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, বনের কোনো ধরনের গাছ কাটা না হলেও বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক তার নামে বন আইনে সাতটি মামলা দায়ের করেছেন। যার সবই মিথ্যা বানোয়াট।

শুধুমাত্র হয়রানি করার উদ্দেশ্য নিয়ে ওই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করে বলেন, মামলার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

টিলাপাড়া গ্রামের সুবিলাশ কোচ জাম্বু বলেন, আমার নামে মিথ্যা বন মামলা দায়ের করার পর থেকে দেড় বছর ধরে পরিবার ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছি।

তিনি দাবি করেন, মামলার পর থেকে পাহাড়ে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারের সদস্য এলাকা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

কাংশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনার উল্যাহ জানান, বন বিভাগের দায়ের করা ওইসব মিথ্যা মামলার ভয়ে পাহাড়ের অনেক পরিবার এখন গ্রামছাড়া। একই কথা জানান, ইউপি সদস্য বকুল চন্দ্র কোচ।

মিথ্যা মামলা দায়ের করার কথা অস্বীকার করে গজনী বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক বলেন, সত্য ঘটনার প্রেক্ষিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, বনবিভাগের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা। যেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে লিখিত আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

ad