সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসীর ফাঁসির দাবিতে পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও

Sunamganj, Terror, Hanging, Claims, Police Camp, Cordon,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৩৪৫ পিছ ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদের (৩৮) ফাঁসির দাবিতে পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উত্তেজিত জনতা।

শনিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলার বাদাঘাট বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকার ভুক্তভোগী হাজার হাজার জনসাধারণ। এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর ১টায় সুনামগঞ্জ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় বাদাঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও বাদাঘাট বাজার ঘেরাও করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী হাবিব সারোয়ার আজাদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত বদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মাদক বিক্রেতা আজাদ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, হেরোইন, মদ, গাঁজার ব্যবসা করছে এবং সে নিজেও সেবন করছে। সেই সাথে নামে বেনামে করছে চাঁদাবাজি। তার অবৈধ কাজে কেউ বাধা দিলে ও প্রতিবাদ করলে তাকে করা হয় নির্যাতন, ফাঁসিয়ে দেয়া হয় মিথ্যা মামলায়।

Sunamganj, Terror, Hanging, Claims, Police Camp, Cordon,

প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) রাত ৯টায় বাদাঘাট বাজার ও কামড়াবন্দ এলাকায় ইয়াবা বিক্রি শেষে চরগাঁও লতারকিত্তা নামক স্থানে যাওয়ার পর খবর পেয়ে এলাকাবাসী ৩৪৫ পিছ ইয়াবাসহ হাবিব সারোয়ার আজাদকে হাতেনাতে আটক করে।

এ সময় সে মাতাল অবস্থায় এলাকার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইদুর ও এএসআই পীযুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াবাসহ মাতাল অবস্থার তাকে গ্রেপ্তার করলে আজাদ তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তার সহযোগ শিহাব সারোয়ার শিপুসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী বিন্নাকুলি বাজারে ইয়াবা বিক্রি করার সময় হাবিব সারোয়ার আজাদের ভাতিজা জুবায়ের শাহকে ৫০০ পিছ ইয়াবাসহ র‌্যাব আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। এ সময় আজাদ পালিয়ে যায়।

এছাড়া, হাবিব সারোয়ার আজাদ নিজেকে সাংবাদিক ও র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির সোর্স পরিচয় দিয়ে তার একান্ত সহযোগি কয়লা চোরাচালান মামলার আসামী আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার করাসহ চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পাঁচবার গণধোলাইয়ের শিকার হয়।

তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ও থানায় চাঁদাবাজি ও চোরাচালান মামলা হয়েছে ১০টি। বর্তমানে হাবিব সারোয়ার আজাদ প্রধানমন্ত্রীর পোষ্টার পুড়ানো ও মূর্তি ভাঙচুর মামলার জামিনে থাকা আসামী। এই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেই এলাকায় আবার সে মাদক ব্যবসা ও বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলেন, ইয়াবা বিক্রেতা হাবিব সারোয়ার আজাদের অত্যাচারে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। আমরা তার ফাঁসি চাই।

বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, ছাত্রনেতা ঝুমুর তালুকদার, রাহাত হায়দার,জাবেদ, ইকবাল হোসেন বলেন, আজাদ প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ওপেন চাঁদাবাজি ও মাদকের ব্যবসা করছে। তার কারণে এলাকার ছোট বড় সকলেই অতিষ্ট। আমরা তার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, এলাকার লোকজন আজাদকে ইয়াবাসহ পুলিশে কাছে সোর্পদ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে পেয়েছি। উপরস্থ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad