হতদরিদ্রদের চাল যাচ্ছে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পেটে

Kurigram map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফের চাল নিয়ে শুরু হয়েছে চালবাজি। একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনিয়ম-দুর্নীতিতে ঈদের আনন্দ ম্লান হতে বসেছে অসহায় দরিদ্র মানুষদের।

জানাগেছে, জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন, নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ, বল্লভের খাষ, উলিপুর উপজেলার থেতরাই, বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন, বেগমগঞ্জ এবং রৌমারী উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে।

ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় ৮৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ৬টি ইউনিয়নের ৪৩ হাজার ৯৯৭ পরিবারের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে চেয়ারম্যান, মেম্বার, দলীয় নেতা-কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে নাম ভাগাভাগি করে নেয়ার কারণে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রবিবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে যাদুরচর, দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড়, শৌলমারী, রৌমারী ও চরশৌলমারী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ভিজিএফ কর্মসূচি চাউল বিতরণের তালিকায় নাম আছে কিন্তু তারা চাল না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

এসব চালের নামের স্লিপ বিক্রির অভিযোগ ওঠছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, দলীয় নেতা-কর্মীসহ একশ্রেণির বাটপারদের বিরুদ্ধে।

যাদুরচর ইউনিয়নের চাল নিতে আসা কয়েকজন বলেন, তালিকায় আমাদের নাম আছে। চালের জন্য এসেছিলাম, আমাদের নামে স্লিপ বিক্রি হয়ে গেছে। ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাছে বিচার দিলাম। কোনো লাভ হয় নাই। খালি হাতে বাড়িতে ঘুইরা যাই। আমাগো গরীব মানুষের চাল বেইচা চেয়ারম্যান, মেম্বার দলের নেতা-কর্মীর ঈদ উৎসব করবো। আমরা না খাইয়া থাকুম। আল্লাহর কাছে একদিন গরীবের চাল খাওয়ার হিসাব হবে।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাদশা মিয়া বলেন, প্রতি বস্তায় চাল কম হয়। আমার আরও ১৫০টি নামে চাল দেয়া বাকি আছে। চাল আছে সাত বস্তা। ইউএনও স্যার পরিদর্শন করে দশ কেজি করে চাল দিতে বলেছেন। তালিকায় নাম আছে তাদের কম-বেশি চাল দিয়ে বিদায় করতে হবে।

যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী, দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হক, চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কেএম ফজলুল হক মন্ডল, বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন, শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, রৌমারী ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) লালমিয়া জানান, আমরা অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করেছি। তালিকাভুক্ত সবাই চাল পাবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে জন্য মিটিং করে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করার কথা। এতো নাম মাঠ পর্যায়ে যাচাই করে দেখা সম্ভব না। চাল না পাওয়ার বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের জানান।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন, আমি ১০ কেজি করে চাল দিতে বলি নাই। চাল বিতরণ করে বেশি হলে উপস্থিত লোকজনের মাঝে বিতরণ করতে বলেছি।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়া দেখা যায় শতকরা ৫০ জন দরিদ্র মানুষ চাল পায় নাই। ৪৪ পরিবারে মাঝে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করলে একটি গরীব মানুষ বাদ যাবে না।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বার, দলীয় নেতা-কর্মীরা গরীবের চাল বিক্রি করে ঈদের টাকা খরচের ব্যস্ত আছে। ভিজিএফ কর্মসূচির উপকারভোগীদের নামে তালিকা সঠিকভাবে করা হয় নাই। এক পরিবারে একাধিক মানুষের নাম আছে, পাশের বাড়ির গরীব মানুষটির নাম নাই।

তিনি আরও বলেন, ছয়টি ইউনিয়নের একাধিক মানুষের অভিযোগ তালিকায় নাম আছে চাল পায় নাই। ২০ কেজি করে চাল বিতরণে নিয়ম থাকালেও উপকাভোগীদের দেয়া করা হচ্ছে ১২-১৩ কেজি করে চাল।

ad