হাতীবান্ধায় চেতনানাশক ওষুধ মেশানো পানি পানে অসুস্থ ৯

Anxiety medicines, drink water, sick 9,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চেতনানাশক ওষুধ মেশানো নলকূপের পানি পান করে ৯ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থরা হলেন- উপজেলা সিংগীমারী ইউনিয়নের মধ্য ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে ও ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন (৪৬), তার স্ত্রী লিপি আরা (৩২), তার ছেলে লিসু (১২), তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রনি বেগম (২৮), একই গ্রামের ইউনূসের স্ত্রী ও জয়নালের বাড়ির কাজের মহিলা শায়রা বেগম (৩৫), আহাবুদ্দিনের স্ত্রী হাওয়া বিবি (৪৫), বাবুলের স্ত্রী আনজু (২৫), রহিদুলের ছেলে ও কাজের ছেলে সাহেদ রানা (১৪) এবং মৃত হোসেন আলীর ছেলে ও কাজের লোক আফতাব উদ্দিন (৫০)।

Anxiety medicines, drink water, sick 9,

এদের মধ্যে, জয়নাল, স্ত্রী লিপি ও তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রনিকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে।

জয়নালের বাড়ির কাজের লোক অসুস্থ আফতাব উদ্দিন বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় বাড়ির সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করি। খাওয়া শেষে যে যার কাজ করতে থাকি। এরইমধ্যে দুপুরের দিকে আমার ও বাড়ির সকলের একটু একটু মাথা ঘুরতে থাকে ও চোখে ঘুম আসতে থাকে।

তিনি বলেন, আমার সাথে কাজ করতে থাকা সাহেদ রানা আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মুখ দিয়ে লালা ঝড়তে থাকে। বিকালের দিকে একে একে বাড়ির সকলেই অচেতন হয়ে পড়ে এবং তাদের মুখে লালা আসতে শুরু করে। এ সময় আমিও বুঝতে পারি আমারও সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত প্রতিবেশীদের খবর দেই। তারা ছুটে এসে আমাকে ও বাড়ির সকলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ধিমান রায় জানান, চেতনানাশক ওষুধ মেশানো পানি পান করার ফলে তারা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাঈম হাসান জানান, হাসপাতালে যারা ভর্তি আছেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, বিষয়টি এখন শুনলাম। আমি কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ad