হাতীবান্ধায় রোগীকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ!

Hatibandha hospital
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মহিফুল খাতুন নামে এক অসুস্থ নারীকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক নাঈম হাসানের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অসহায় মহিফুল খাতুন নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের রমজান আলির মেয়ে।

অভিযুক্ত নাঈম হাসান হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ মহিফুল খাতুন হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে শুয়ে আছে। আর তার বৃদ্ধা মা পিঞ্জিরা বেগম দেয়ালে হেলান দিয়ে তার পাশে বসে আছে। তারা আশে পাশে ঘোরাঘুরি করছে কর্মরত নার্সরা। তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

এসময় পিঞ্জিরা বেগম জানান, গত মঙ্গলবার আমার অসুস্থ মেয়ে মহিফুল খাতুনকে হাসপাতে ভর্তি করি। কিছুটা সুস্থ হয়েছে সে। আজ হঠাৎ করে ডাক্তার নাঈম স্যার মেয়ে নিয়ে রংপুরে যেতে বলে। তখন আমি বলি স্যার আমরা গরীব মানুষ, কেমন করে মহিফুলকে রংপুরে নিয়ে যাব। আমরা তার কথা না শুনলে সে জোর করে হাসপাতালের বেড থেকে আমাদের নামিয়ে দেয়। আর বলে আমরা যদি চলে না যাই তাহলে পুলিশে দিবে।

এ সময় এক সেবিকা জানান, তার মেয়ে বিছানায় প্রসাব ও পায়খানা করে। এ বিষয়ে রোগীরা অভিযোগ করেছে। তাই তাদেরকে হাসপাতাল ছাড়তে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাঈম হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (প.প) রমজান আলী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে রোগীকে থাকার ব্যবস্থা করছি।

এদিকে, চিকিৎসক নাঈম হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবর্তে সে বেশীরভাগ সময় স্থানীয় কয়েকটি ক্লিনিকে কাটায়। সেখানে টাকার বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা করে সে। হাসপাতালে কোন ডেলিভারী রোগী আসলে ই সব ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। আর এসবের বিনিময়ে সে পায় মোটা অংকের অর্থ।

ad