১৫০ প্রতিবন্ধীকে আলোর পথ দেখাচ্ছে বৃ-কাশো বিদ্যালয়

150 disabled, scholarship school,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীদের আলোর পথ দেখাচ্ছে বৃ-কাশো প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। যারা একদিন ঘরে বসে বাবা-মায়ের বোঝা হয়ে ছিল, তারা এখন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সমাজের আরও দশজন ছেলে-মেয়ের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছে।

প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের স্বপ্ন পূরণের কাজটির দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজসেবক প্রতিবন্ধী সাজাহান আলী। বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা।প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সমাজের বোঝা বা ধিক্কৃত না হয়, সেজন্য তাদের শিক্ষার পাশাপাশি শেখানো হচ্ছে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারার জন্য কিছু কর্মমুখী শিক্ষা।

নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবুসহ ওই এলাকার কিছু সমাজসেবক ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারিতে বৃ-কাশো গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করা হয় বৃ-কাশো প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এই প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার পাশাপাশি ইতোমধ্যে বয়স্ক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দর্জি প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যালয় গেলে চোখে পড়ে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের পাঠদান চলছে। কোনো কোনো ক্লাসে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের খেলনা নিয়ে মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে। নাচের ক্লাসে নৃত্য প্রদর্শন করছে কেউ কেউ। গান শিখছে গানে আগ্রহী শিশুরা। মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি আঁকার কাজে ব্যস্ত দেখা গেল কোনো কোনো শিশুকে। আর এই কাজের সহযোগিতা করছেন শিক্ষা সহকারী লিটন আহমেদ।

প্রতিবন্ধী বর্ষার বাবা ইমরান বলেন, তার মেয়ে হাঁটতে পারতো না। এ কারণে তাকে এতদিন কোনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। বৃ-কাশো প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাজাহান আলী তাকে ক্র্যাচ সরবারাহ করায় সে ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।

বৃ-কাশো বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস ছামাদ বলেন, প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হলে তারা আর সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না। আমরা সব সময় চেষ্টা করি তাদের মনের মতো করে পাঠদান করাতে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সমাজ সেবক সাজাহান আলী বলেন, নানা সংকট মোকাবেলা করেই আমি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছি। এলাকার ১৫০ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে খুঁজে বের করে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম, যাতায়াত সবকিছুই বিনামূল্যে বিদ্যালয় থেকে সরবারাহ করা হয়েছে। ছয় ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃ-কাশো প্রতিবন্ধী স্কুলটি প্রতিবন্ধীদের মাঝে যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে, সেটা যেন গোটা উপজেলার প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এটাই সবার কাম্য। নাটোর জেলার মধ্যে কম সময়ে মধ্যেই এই স্কুলটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি জানায়, এই বিদ্যালয়ে পড়তে পেরে আর তাদের খারাপ লাগে না। আগে সবসময় মন খারাপ থাকতো। এখানে এসে পড়তে পারি, খেলতে পারি, নৃত্য করতে পারি, খুব ভালো লাগে। সমাজের দশজনের মত তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই বিদ্যালয়ে পাঠদান করাই। সরকারি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তারা আরও সুবিধা পাবে। তাদের বেড়ে ওঠা অনেক সহজ হবে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, শিক্ষার প্রসারে নাজিরপুর বৃ-কাশো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

ad