তিন শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন সম্রাট

তিন শর্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বুধবার (১১ মে) বেলা ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ -এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তাকে জামিন দেন।


এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ তে এ তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আনা হয়।


এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মানবিক দিক বিবেচনায় সম্রাটকে জামিন দেয়ার আবেদন জানান। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনার বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার।


আসামিপক্ষে মাহবুবউল আলম দুলালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।


উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বলেন, দীর্ঘ হাজতবাস ও স্বাস্থ্যগত কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়া হলো।


আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবউল আলম দুলাল বিবার্তাকে বলেন, আদালত তিনটি শর্তে অন্তর্বতীর্কালীন জামিন দিয়েছেন। শর্ত তিনটি হলো- সম্রাট বিদেশ যেতে পারবোনা, তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং জামিনের পর মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।


তিনি বলেন, এর আগে অন্যান্য মামলাগুলোতে জামিন পাওয়ায় এখন মুক্তি পাওয়াতে সম্রাটের আর কোনো বাধা নেই।


এর আগে, গত ৩১ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ -এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান দুদকের মামলায় সম্রাটের উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য ১৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এদিন ক্যানোলা হাতে সম্রাটকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করে এই মামলায় চার্জগঠন শুনানির জন্য ১১ মে ধার্য করেন আদালত।


এদিকে, গত ১১ এপ্রিল ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।


অপরদিকে, গত ১০ এপ্রিল অস্ত্র মামলায় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদের এবং অর্থপাচার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন জামিন মঞ্জুর করেন।


এর আগে, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দিনই রাত পৌনে ৯টার দিকে সম্রাটকে কারাগারে নেয়া হয়।