হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যাচ্ছে বাংলাদেশ

দশ দিনের নিউইয়র্ক সফরের মধ্যভাগে আরে একটি সু-খবর দিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জানালেন, এবার প্রসিদ্ধ ও প্রাচীনতম আবাসিক গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


দশ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ষষ্ঠ দিনে (১০ মে) ম্যাসাচুসেট্‌স-এর বোস্টনে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পলক।


বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, হার্ভার্ড এবং আইসিটি বিভাগের মধ্যে যৌথ প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শিগগিরই একসাথে কাজ শুরু হবে।


যৌথ গবেষণার জন্য উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি নির্বাচনে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে সামনে একটি এমওইউ স্বাক্ষর করার বিষয়টিও অবহিত করেছেন পলক।


হার্ভার্ডের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহাসিক স্থান ওয়াডসওয়ার্থ হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রভোস্টের অফিস শাইরা কচুবায়েভায় প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান হার্ভার্ডের ইমার্জেন্সি মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক সচিৎ বালসারি এবং লক্ষ্মী মিত্তল এবং ফ্যামিলি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক হিতেশ হাতি। এরপর বৈঠকে মিলিত হন তারা।


বৈঠক বিষয়ে প্রিতমন্ত্রী বলেন, আমি কয়েক মাস আগে হার্ভার্ডে গিয়েছিলাম এবং প্রফেসর তরুণ খান্নার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আর আজ কিভাবে আইসিটি বিভাগ এবং হার্ভার্ড একসাথে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশা করছি, অল্পদিনের মধ্যেই আমরা একসঙ্গে কাজ শুরু করতে পারবো।


বৈঠকে এটুআই নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. খাইরুল আমিন।


এর আগে হার্ভার্ড পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ‘অনুকরণ নয় উদ্ভাবন’ বিষয়ক উদ্ধৃতি লিখেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জীবনী গ্রন্থ উপহার দেন।


প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীকে বিদেশের মাটিতেও সুবর্ণময় করতে নিউইর্য়কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘গোল্ডেন জুবিলী বাংলাদেশ কনসাট’ সফল করতে গত ৪ মে যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এরইমধ্যে তিনি সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা অবলম্বনে বাংলাদেশের অ্যানিমেটরদের নির্মিত ‘মুজিব আমার পিতা’ অ্যানিমেটেড মুভি প্রদর্শন, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নামে সাইবার সুরক্ষা সম্মাননা প্রবর্তন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রবাস থেকে দেশে ব্যবসায় পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণের সম্মেলনসহ নানা কার্যক্রম পালন করছেন। ১১ মে পর্যন্ত এই সফরে সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত বহুজাতিক কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরাকলের প্রধান নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও রয়েছে। অর্থাৎ এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে রথ দেখার সঙ্গে কলাও বেঁচছেন বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।