মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিকল্প নেই: ছাত্রদল

বৈশ্বিক রাজনীতিতে টিকে থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি চর্চার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।


বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু।


'বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবির) সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ক্যাম্পাসের ভিতরে অসাংবিধানিকভাবে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় প্রতিবাদে' এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


তিনি বলেন, '৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে '৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং '৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির এরকম গৌরবজ্জল ইতিহাস থাকলেও ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতি ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর নতজনু, প্রভুভক্ত, আত্মকেন্দ্রীক গোষ্ঠী। বর্তমান প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে অসচেতন হলে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট, ভয়ের সংস্কৃতি, বিচারহীনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির অভাবে দেশ একসময় বিদেশি প্রভু নির্ভর অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসগুলোতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শনের চর্চা না হলে এক ধরনের মৌলবাদী -সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থান হওয়ারও ঝুকি রয়ে যায়।


'তাই বৈশ্বিক রাজনীতিতে টিকে থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি চর্চার বিকল্প নেই। আর মেধাবী নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উঠে আসতে হবে।'


রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু বলেন, দেশের এই বৃহৎ শিক্ষার্থীদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং তাদেরকে মূল ধারার নেতৃত্বে যুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের আওতায় 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল' প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তৎকালীন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল'।


'বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রত্যক নাগরিক তার পছন্দমত রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তার রাজনৈতিক ভাবনার বিস্তার ঘটাতে পারবেন। সংবিধান সেই ক্ষমতা নাগরিককে দিয়েছেন। সংবিধানের ৩৮নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র নাগরিকদের এই অধিকার নিশ্চিত করনের কথা বলেছে। সংবিধানের-৩৯ নং অনুচ্ছেদে, জনগণের চিন্তা- বিবেক, বাক স্বাধীনতা এবং ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।'


বিন্দু বলেন, ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু হয় ইউজিসির নীতিমালায়। এই নীতিমালায় ছাত্র সংগঠন করা যাবে না এমন কিছু বলা হয়নি এবং ২০১০ সালে ইউজিসি সেই নীতিমালায় পরিবর্তন আনে সেখানেও ছাত্র সংগঠন করা যাবে না এমন কিছু বলা নেই। ইউজিসির নীতিমালার ৬নং ধারার ১০ উপধারায় বলা হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না এবং ৯ ধারার ৫ উপধারায় বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্জন, চলা-ফেরা ও নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতে হবে।


তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শিক্ষার্থী বান্ধব চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, একটি ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন হিসেবে সবসময় শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচি নিয়েই কাজ করে আসছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। যেমন শিক্ষার ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে ২০১১ সালে এবং ২০১৫ সালে রাজপথে সরব অবস্থানে ছিল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল । এছাড়াও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনগুলোতেও শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে মাঠে ছিল সংগঠনটি।


বিন্দু আরো বলেন, রাজনীতি করা ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। কোন প্রতিষ্ঠা সেটি নিষিদ্ধ করতে পারে না। আমাদের জাতি হিসেবে যত অর্জন তার প্রতিটিতে ছাত্র রাজনীতি বিশেষ অবদান রেখেছে সব সময়। রাজনীতি সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের জন্য জরুরী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের জন্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে উঠবে।


সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।