‘বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না’

বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে কখনো গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।


গেল রাতের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে কখনো গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। এখানে জনগণের শক্তির ওপর গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এবার জনগণ এই সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। জনগণ সকল বাধা, বিপত্তি এবং নির্যাতনকে উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তারা সংগঠিত হচ্ছে।


মির্জা ফখরুল বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বললো, চীন বা রাশিয়া কিংবা ভারত বললো- তারা কি বলেন বা না বললে- তারা নি:সন্দেহে রাজনৈতিক পরিস্থিতি থাকে। কিন্তু আমরা যেটা লক্ষ্য করছি, গণতন্ত্রের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কমিটমেন্ট, সেটা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেছেন। আর একটি ফেয়ার নির্বাচন, একটি গ্রহণযোগ্যমূলক নির্বাচন এবং অংশীদায়কমূলক নির্বাচনে বিষয়ে তারা মন্তব্য করেছেন। আর বলেছেন, যদি গণতন্ত্রের পথ কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এই কথা আমরা বলবো।


মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছে সরকার। যা মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা আনন্দিত নই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত সরকারের বিরুদ্ধে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।


বিএনপির কর্মসূচির সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির কর্মসূচির দিলে আওয়ামী লীগকে কর্মসূচি না দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আর একই দিনে কর্মসূচি দিলে কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে এর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।


বিরোধী দলকে দমন করতে ইসরায়েল থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কেনা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগের ওপর নজরদাবী করার জন্য ইসরাইলি এক কোম্পানীর কাছ থেকে প্রযুক্তি ক্রয় করা হয়েছে বলে দেশ ও বিদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় যা গভীর উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে আড়িপাতার বিষয়ে আইন প্রণয়নের ঘোষণা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় গত চার বছরে ১ হাজার ২০৯টি মামলা দায়ের হওয়াতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে, এই চরম নির্বতন মূলক আইনের মাধ্যমে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি, সংবাদ কর্মী, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত করা হচ্ছে ও মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে। নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর এই আইনের অপপ্রয়োগের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনের আওতায় বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়।


তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকরী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব, দলের গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি নিয়ে যে, এখতিয়ার বহির্ভূত, শিষ্টাচার বিবর্জিত অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।