সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন কত ধাপে শেষ হবে?

সরকার হঠাতে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। গত ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে এই কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। এরপর আবারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পর্যায়ক্রমে ১০ ধাপের কর্মসূচিতে তারা এই যুগপৎ আন্দোলন শেষ করতে চায়। এই ১০ ধাপের কর্মসূচিতে সরকার পতনসহ তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে চায়। তবে দাবি আদায় না হলে আবারও নতুন কর্মসূচি দেবে বলে বিএনপি এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।



জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বিবার্তাকে বলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি  যুগপৎ আন্দোলনের চতুর্থ ধাপের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ওই কর্মসূচি থেকে আবারও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এভাবে ১০ ধাপে কর্মসূচি দেয়া হবে। আর এই ১০ ধাপ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। যদি এই ১০ ধাপ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দাবি আদায় না হয় তাহলে পরবর্তীতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে আবারও কর্মসূচি দেয়া হবে।



এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে- তারা এই সরকারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং ভোটাধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত দলগুলো একমত হয়েছে, ১০ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে সফল করবে।


জানতে চাইলে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক ও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বিবার্তাকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলন কত ধাপে গিয়ে শেষ হবে তা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই আন্দোলন ৯ কিংবা ১০ ধাপে গিয়ে শেষ হবে। আবার ১১ ধাপে গিয়েও শেষ হতে পারে।



জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বিবার্তাকে বলেন, শেষ বলে কিছু নেই। যখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে এবং আমরা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবো- তখন আমাদের যুগপৎ আন্দোলন শেষ হবে।


জানতে চাইলে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বিবার্তাকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলন একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। আর সরকার পদত্যাগ না পর্য‌ন্ত এই আন্দোলন চলবে।


গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশে ব্যর্থ, অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ সরকারের পদত্যাগ, অনির্বাচিত সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা বাস্তবায়ন এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।


তবে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণমিছিল করার কথা ছিল। কিন্তু এদিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল থাকায় দলটির পক্ষ থেকে বিএনপির কর্মসূচি পেছানোর আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপি ঢাকায় ২৪ ডিসেম্বরের গণমিছিল ৩০ তারিখে করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা ও রংপুর বিভাগে এবং ২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে গণ মিছিল করেছে বিএনপি।


পরে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি হিসেবে ১১ জানুয়ারি সারাদেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় সদরে গণঅবস্থান কর্মসূচি করছে বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।



এদিকে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন কোথায় গিয়ে শেষ- এবিষয়ে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি খুব শিগগিরই বৈঠক করবে। ওই বৈঠকেই যুগপৎ আন্দোলন কত ধাপে গিয়ে শেষ তা চূড়ান্ত করা হবে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।


জানতে চাইলে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক ও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বিবার্তাকে বলেন, আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি সাথে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটি বৈঠক হবে। সেখানে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।



আসছে নতুন কর্মসূচি:



আগামী ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ওই কর্মসূচি থেকে আবারও নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।


সূত্র জানায়, বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। তবে কি কর্মসূচি দেয়া হবে সেবিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আগামী ২৩ জানুয়ারি কিংবা ২৪ জানুয়ারি বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।


তবে গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোর প্রতিবাদে আগামী ২৫ জানুয়ারির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি আসবে বলেও সূত্রটি জানায়।


জানতে চাইলে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা শীর্ষ শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বিবার্তাকে বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আর আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। আগামীতেও আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করব।