হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে চিকিৎসকের দুর্ব্যবহার (ভিডিও)

ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে আসা ফারুকুজ্জামান নামের একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এক চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

রবিবার (৮ জুলাই) ফারুকুজ্জামানের ছেলে শেখ দুর্জয় জামানের এক ফেসবুক পোস্টে ওই ভিডিও আপলোডের পাশাপাশি বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদের অনুলিপি দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে কয়েকশ মানুষ পোস্টটি শেয়ার করেছেন এবং অনেকে মন্তব্যও করেছেন। অনেকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে দুর্জয় জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই তার বাবা বুকে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে রাত ৩টার দিকে তাকে ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

Posted by Sheikh Durjoy Zaman on Saturday, July 7, 2018

তিনি জানান, সেখানে তাকে অক্সিজেন দিয়ে ইসিজি করানোর পর চিকিৎসকরা সিসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে সিসিইউর সিট খালি না থাকায় শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার পর সিসিইউতে কর্তব্যরত একজন বলেন, সিট খালি নাই। অথচ সেখানে তিনটি সিট খালি ছিল। ইসিজি করার পর বাবাকে বারান্দায় শুতে থাকতে হবে বলে জানান তারা।

দুর্জয় বলেন, ভোর পৌনে ৬টার দিকে জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখি, তিনি অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করছেন। একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি বাবার সঙ্গে যা করেছেন সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি তুই তোকারি করেছেন, অশ্লীল ভাষায় কথা বলেছেন, তার হাসপাতালের স্টাফদের ডেকেছেন আমাদের আটকে ফেলতে।

দুর্জয় আরও বলেন, আমার বাবা চিকিৎসককে বলেন, এখানে তো সিট পাচ্ছি না, তাই চলে যাব। তখন বাবা ওই চিকিৎসককে আমার এক চিকিৎসক চাচার (বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের) কথা বলেন যে তাকে দেখাবেন। তখন ডাক্তার বলেন, যান ওনার কাছে চলে যান, এইখানে কেন আসছেন? লাগবে না ছাড়পত্র, ওনার কাছে চলে যান।

তখন বাবা বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, এভাবে কথা বলবেন না। কিন্তু এই কথাটা শুনেই যেন তিনি জ্বলে ওঠেন। ডাক্তার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তো কি হয়েছে?

Posted by Sheikh Durjoy Zaman on Saturday, July 7, 2018

দুর্জয় ওই ডাক্তারকে বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় লেখাপড়া করেছেন, এখন বেতনও পাচ্ছেন জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। তাই এই ধরনের আচরণ কারও সঙ্গেই ঠিক নয়।

এ কথা শুনে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চিকিৎসক। এতে মুক্তিযোদ্ধার দিকে আঙুল উঁচিয়ে উচ্চ শব্দে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, আমি চাকর? জবাবে ফারুকুজ্জামান বলেন, চাকর না তা কি? তখন তার গায়ে হাত দিয়ে একপাশে সরিয়ে দিতে দিতে চিকিৎসক বলেন, “যাহ”। এরপর সুর নামিয়ে বলেন, ভাই এসব বইলেন না।

পরেই আবার চিকিৎসককে তাকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়, এই ছেলে করেছেন ফ্রিডম ফাইটার হয়ে? এই ছেলে করেছেন? তখন ফারুকুজ্জামান প্রশ্ন করেন, কি ছেলে করেছি? আপনার সঙ্গে কি আচরণ করেছি?
পাল্টায় চিকিৎসক বলেন, “যাহ ব্যাটা।”

দুর্জয় বলেন, ওই চিকিৎসক এক পর্যায়ে স্টাফদের আমাদের আটকাতে বলে নিজে কক্ষের ভিতরে ঢুকে কিছু একটা নিয়ে আসেন বাবাকে মারতে। কিন্তু আমার স্ত্রী সবকিছু ভিডিও করছে দেখে তিনি থেমে যান।

ad