ইতিহাসের পথ ধরে সাইদুর রহমান প্যাটেল

Saidur rahman
ad

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মহান স্থপতি; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহ এবং ভালোবাসার পাত্র ছিলেন পুরাতন ঢাকার গেন্ডারিয়ার সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল। বঙ্গবন্ধু তাঁর আঞ্চলিক ভাষায় প্যাটেলকে বলতেন- আমার মেয়াচাঁন।

সাইদুর রহমান প্যাটেল তাঁর জীবদ্দশায় এর উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নীতি আদর্শে অটুট থেকেছেন। নীতি আদর্শ কখনো বিসর্জন দেন নাই। কোনো দিন কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নাই। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো জেনেছেন, তাইতো তিনি আজ আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। দিবালোকের মতো নির্মল। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল শুধু পুরাতন ঢাকার নয়, সারা বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকারের প্রতীক।

তিনি সৎ, নির্ভেজাল, নির্লোভ, মেধাবী; পরিছন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বর্তমান সময়ে তার মতো আদর্শবান ও পরিছন্ন একজন মানুষকে নেতা হিসেবে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তিনি সমাজ এবং রাষ্ট্রের অনন্য সম্পদে পরিণত হয়েছেন। এই উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, বাংলাদেশ তৈরীর মহান কারিগর, জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের; প্যাটেল ছিলেন পুত্রতুল্য। বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামাল ছিল প্যাটেলের প্রিয় বন্ধু। স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ছিলো সাইদুর রহমান প্যাটেলের আর একটি বাড়ি। রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার খুব কাছে ছিলেন। দেশের রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে সাইদুর রহমান প্যাটেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি।

একটু যদি নীতি আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াতেন তাহলে এই শহরে সম্পদের পাহাড় গড়তে পারতেন তিনি। এমন একজন কে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কিনা বলতে পারবে সাইদুর রহমান প্যাটেল জুলুম বা অত্যাচার করেছেন। উপকার করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছেন, সমাজে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। জীবনের যা কিছু মহান অর্জন তা শুধু শ্রম ঘামের বিনিময়ে অর্জন করেছেন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নেতা হিসেবে পেয়েছিলেন এই উপমহাদেশের বিখ্যাত নেতা শেরেবাংলা এ কে এম ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে।আর সাইদুর রহমান প্যাটেল রাজনীতির গুরু হিসেবে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কালজয়ী এই নেতাদের উত্তরসূরি হিসেবে নীতি আদর্শে দীক্ষা নিয়ে আজীবন সচেষ্ট থেকেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর প্যাটেলকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় প্যাটেলকে মুক্তির শর্তে তৎকালীন জিয়া সরকার এমপি, মন্ত্রী বানানোর প্রলোভন দেখান। তবে কোনো প্রকার প্রলোভনের সাড়া না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্যাটিল। এই সমাজ এবং জাতীর কাছে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের প্রতিষ্ঠিতা সাইদুর রহমান প্যাটেল মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছেন; পুত্রতুল্য ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন।বঙ্গবন্ধু বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন- আমার প্যাটেল। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি ব্যক্তি জীবনে আর কিছু হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্নেহ, ভালোবাসা, স্মৃতি বুকে চেপে সাইদুর রহমান প্যাটেল নিরন্তর হেঁটে চলেছেন ইতিহাসের পথ ধরে…

ফরহাদ হোসাইন মিঠু

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Mithu

ad