পুলিশ কি সত্যিই জনগণের বন্ধু?

jagoran- Police, people, friends,
ad

দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। প্রতিটি মানুষেরই ভালো-মন্দ দিক আছে। সেখানে কোনো গোষ্ঠী হলে তো কথাই নেই। সকল শ্রেণি বা পেশাতে যেমন ভালো মানুষ আছে, তেমন খারাপ মানুষও আছে। হয়তো বা দশজন ভালো মানুষের ভীড়ে একজন বা দুইজন খারাপ মানুষ থাকতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভালো কাজটা না ছড়ালেও খারাপ কাজগুলো ছড়ায় ঝড়ের গতিতে।

এবার আসল আলোচনায় আসা যাক। বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। পুলিশের চারদিকে শুধু বদনাম আর বদনাম। পুলিশ ঘুষ খায়, মানুষের ক্ষতি করে, আরও কত কি। ধরেই নিলাম পুলিশ অনেক খারাপ কাজ করে। কিন্তু সকল পুলিশ সদস্যই কি তা করে? মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের জন্য পুরো পুলিশ বিভাগের দোষ দেয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত?

একটা কথা ভেবে দেখেছেন কি? আপনি যখন রাতে ঘুমাতে যান, তখন সারারাত জেগে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কে? আপনার কোনো বিপদ হলে আগে আপনি কার কাছে ছুটে যান? ঈদসহ যেকোনো উৎসবে যখন আপনি পরিবার-পরিজনের কাছে ছুটে যান, তখন নিজের পরিবার-পরিজনদের দূরে ফেলে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে আপনার শহরের, আপনার সম্পদের নিরাপত্তা দেয় কে? এমন অনেক ভালো কাজের ভুরি ভুরি উদাহরণ আমি দিতে পারবো।

কিন্তু এতসব ভালো কাজের বিনিময়ে তারা কি পাচ্ছে? পুলিশ যে টাকা বেতন পায়, তা দিয়ে তার সন্তানদের মোটা চালের ভাত, মোটা কাপড় ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। অধিকাংশ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সন্তান মানুষ হয় অনেক কষ্ট করে। এগুলো কেউ দেখে না, দেখে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অপকর্মকে।

আর যদি দুর্নীতির কথা বলেন তাহলে সকলের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের ভেতরে অনেকেই আছেন যারা তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার যথেষ্ট নজির রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর সম্ভ্রম হারানোর নজিরও কম নেই। অনেক ডাক্তার রয়েছেন, যারা শুধুমাত্র কমিশনের আশায় প্রয়োজনের পাশাপাশি অনেক অপ্রয়োজনীয় টেষ্ট করতে দেন। অনেক অখ্যাত কোম্পানির অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন। অনেক ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন, যারা অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিংয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিলেও চোখে দেখেন না। ট্যাক্স, ভ্যাট ফাঁকি দেন না এমন ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া দায়।

আর সাংবাদিক, রাজনীতিবিদদের কথা নাই বা বললাম। এইসব এলিট শ্রেণির মানুষেরা লাখ-কোটি টাকার দুর্নীতির করলে সমস্যা নেই, সমস্যা হলো পুলিশের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের দশ, বিশ, একশত, পাঁচশত, দুই হাজার, পাঁচ হাজার, দশ হাজার বা লাখ টাকার দুর্নীতিতে।

আমি তো এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তার উদাহরণ দিতে পারি, মানবতার জন্য তার যে অবদান তা এদেশের অনেক বড় বড় এমপি-মন্ত্রীদের নেই। ডিআইজি সংস্থাপন জনাব হাবিবুর রহমান শিক্ষার বিস্তারে স্কুল- কলেজ স্থাপন করে, বেদে ও হিজড়াদের জীবন মান উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা সত্যিই বিরল।

আপনারা যারা পুলিশের দুর্নীতির সমালোচনা করছেন, তারা যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে, যে টাকায় মেগাবাইট কিনে সমালোচনা করছেন সেই টাকাটা কতটুকু সততার সাথে আয় করা ভেবে দেখেছেন কি?

পুলিশ সত্যিই জনগণের বন্ধু। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টায় লিপ্ত। সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা না করে একটু বিচার-বিশ্লেষণ করে গঠনমূলক সমালোচনা করলে সমাজ, দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

মো. সোহেল বিশ্বাস
সিনিয়র সহ-সভাপতি,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, খুলনা মহানগর শাখা

(প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব দৈনিক জাগরণ সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য দৈনিক জাগরণ কর্তৃপক্ষ আইনগত  বা অন্য কোনো ধরনের দায় নেবে না।)

ad