সিলেকশন গ্রেড এবং টাইমস্কেলের স্থলে ইনক্রিমেন্ট প্রবর্তনে সৃষ্ট বৈষম্যের ব্যবচ্ছেদ

teacher
ad

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গণকর্মচারি কর্মকর্তাদের সমস্ত আশাভরসায় জল ঢেলে দিয়ে অবশেষে সরকার সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল তুলে দেয়ার পথই বেছে নিতে যাচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন বিলম্বে পদোন্নতি পাওয়া এবং ব্লক পোস্টের সরকারি চাকুরিজীবীগণ।

পূর্বে কোন চাকুরে নিয়মিত পদোন্নতি না পেলে চাকুরির চার বছর পূর্তিতে নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে সিলেকশন গ্রেড পেতেন। ফলে পদোন্নতি না পেলেও পদোন্নতির গ্রেড পেতেন তিনি। এতে তাঁর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে যেতো।

পত্রপত্রিকার প্রকাশ, এই সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবি যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে সকলের আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। এর ফলে বঞ্চিতরা আরও আর্থিক বৈষম্যের শিকার হবেন। এখন দেখা যাক বাস্তব চিত্রটা কেমন…

ধরা যাক, ৯ম গ্রেডের দুজন কর্মকর্তা আলম ও আরিফ সাহেব একই দিনে ২৩১০০/- টাকা বেসিকে চাকুরিতে জয়েন করলেন। আলম সাহেবের পদোন্নতি হওয়ায় চার (৪) বছরান্তে তাঁর বেসিক হবে ৩৫৫০০/- টাকা। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধাসহ তাঁর মোট বেতন হবে ৫১১১০/- টাকা। অন্যদিকে পদোন্নতি না পাওয়ায় চার (৪) বছরান্তে আরিফ সাহেবের বেসিক হবে ২৮১০০/- টাকা। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধাসহ তাঁর মোট বেতন হবে ৪০৭৫০/- টাকা।

অর্থাৎ চার বছর পর দুজনের প্রাপ্য বেতনের পার্থক্য দাঁড়ায় ১০৩৬০/- টাকা।

পাঁচ বছরান্তে ঐ ৩৫৫০০/- টাকা বেসিকের ৫% বৃদ্ধি পেয়ে আলম সাহেবের বেসিক হবে ৩৭২৮০/- টাকা এবং মোট বেতন হবে ৫৩৬০২/- টাকা। আবার পাঁচ বছরান্তে ২৮১০০/- টাকা বেসিকের ৫% বৃদ্ধি পেয়ে আরিফ সাহেবের বেসিক হবে ২৯৫১০/- টাকা এবং মোট বেতন হবে ৪২৭২৪ /- টাকা।

তাহলে পাঁচ বছর পর দুজনের বেতনের পার্থক্য দাঁড়ায় ১০৮৭৮/- টাকা। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে বেতনের বৈষম্য আরও ৫১৮/- টাকা বেড়ে ১০৮৭৮/- টাকা হলো। এভাবে চাকুরির বয়স যত বাড়বে বৈষম্যের মাত্রাও তত প্রকট হবে।

এভাবেই সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের বিলুপ্তি বছরের পর বছর ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করতে যাচ্ছে বিলম্বে পদোন্নতি পাওয়া এবং ব্লক পোস্টের সরকারি চাকুরিজীবীদের।

আমাদের সংবিধান সবসময় বৈষম্যের বিলুপ্তির পক্ষে। সুতরাং আর্থিক বৈষম্যের অবসান না ঘটিয়ে সিলেকশন গ্রেড এবং টাইমস্কেলের বিলুপ্তি যেমন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে সীমাহীন ক্ষোভের সৃষ্টি করবে, তেমনি তা হবে স‌ংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

লেখক:
নাজমুল আলম সিদ্দিকী তরু
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
প্রভাষক, শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, শেরপুর।

ad